মানিক পশারীর দাফনে বাধা: কারা ছিলেন সামনে?
পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান ঘিরে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কবর ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্বজনরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এবং গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুলিশি নিরাপত্তায় গভীর রাতে পরিবারের লোকজন তাকে দাফন করে।
মানিক পশারী ৮৭ বছর বয়সে মারা যান। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
কবর ভরাটের অভিযোগ, স্থানীয় নেতাদের নাম
অভিযোগ এসেছে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক, পৌর জামায়াতের আমির ইসহাক আলী এবং জিয়ানগর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মামুন হোসাইনের বিরুদ্ধে। তাঁরা বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন।
এছাড়া পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া এবং মিছিল করার অভিযোগ উঠেছে।
জামায়াতের বক্তব্য ও তদন্ত কমিটি
জামায়াতের স্থানীয় নেতারা দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ও তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে আপত্তি ছিল।
এদিকে, ২৭ অক্টোবর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটিতে রয়েছেন সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও নুরুল ইসলাম বুলবুল। তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা?
মানিক পশারীর দাফন ঘিরে বিতর্ক, মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি, রাজনৈতিক বিরোধ এবং নাগরিকের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন সামনে এসেছে। কারও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি থাকলে তা সরকারি নথি ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দাফনে বাধা, কবর ভরাট বা স্বজনদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ সত্য হলে, সেগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
Comments