জাইকা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঋণ ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো জাপানে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ড. তানাকা আকিহিকোর বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকটি স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং জাইকার অনবদ্য অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতি সাধনে জাপানের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে বাংলাদেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এই অংশীদারি অব্যাহত রাখার ওপর তিনি জোর দেন।
বৈঠকে জাপানের সহায়তায় চলমান বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাপানের কাছে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনা করে বৈঠকে বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
-
বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।
-
একটি আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা।
-
কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
-
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত বছরের মতো এবারও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তা প্রদান।
জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এসব উদ্যোগ উভয় দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে।
Comments