ইউরোপে সহিংস বিক্ষোভ: ফ্রান্স, ইতালি ও আলবেনিয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসনসংকট, মজুরি, শিক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিক্ষোভের কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফ্রান্স, ইতালি ও আলবেনিয়ায় সহিংসতার খবর তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগের কারণ হলেও বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালেও বিভিন্ন দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সব দেশে বিক্ষোভের ধরন ও সহিংসতার মাত্রা এক নয়।
ফ্রান্সে প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁ, বোর্দো ও লিমোজাঁসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট বেশি হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষকে কেন্দ্র করে এই সহিংস প্রতিবাদ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিছু এলাকায় কারফিউ জারির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
ইতালিতে মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। মূল্যবৃদ্ধি, মজুরি এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে অসন্তোষ এসব আন্দোলনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। মিলানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকারবিরোধী ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রীতিমতো দাঙ্গা শুরু হয়েছে। এসব বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি ভবন ও ব্যাংকে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ, শিক্ষার ব্যয় এবং কর্মসংস্থানের সংকট আন্দোলনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক অসন্তোষের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট যুক্ত হওয়ায় দেশটির পরিস্থিতি বিশেষভাবে নজরদারির মধ্যে রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বেলজিয়ামে ব্রাসেলস ও লিয়েজে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। তবে এসব ঘটনার ব্যাপ্তি ও তীব্রতা সব এলাকায় সমান নয়। দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে এখনও ব্যাপক দাঙ্গা হিসেবে চিহ্নিত করছে না আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
অন্যদিকে, স্পেনের মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় আবাসনসংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর রয়েছে। মাদ্রিদে শিক্ষকদের ধর্মঘটও বিভিন্ন দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। এসব কর্মসূচিতে জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটলেও সব বিক্ষোভে সহিংসতা হয়েছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
একইভাবে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন ও পোর্তোতে উচ্চ ভাড়া এবং আবাসনসংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে।
Comments