কৃষ্ণসাগরে জাহাজে ড্রোন হামলা, বাড়ছে ন্যাটোর উদ্বেগ
কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় বাড়ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। গত ১০ দিনে অন্তত ছয়টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি ও নাবিক নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ন্যাটোর কাছে ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা চেয়েছে বুলগেরিয়া।
কৃষ্ণসাগরের জলসীমা যেন ক্রমেই হয়ে উঠছে যুদ্ধের নতুন ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। ইউক্রেনের শস্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে। অক্টোবরের শুরু থেকে রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় এসব হামলায় কয়েকটি জাহাজ ডুবে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও কয়েকটি।
সর্বশেষ ১৫ অক্টোবর রোমানিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলের কাছে ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায় 'ওয়াইন ট্রেডার' নামের একটি রাসায়নিকবাহী ট্যাংকারে। জাহাজটিতে থাকা ১২ নাবিকের মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হন সাতজন। এর আগেও বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে ড্রোন হামলায় জাহাজডুবি ও নাবিক নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।
এসব হামলার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও সব ঘটনার দায় এখনো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে ন্যাটোর এক সামরিক সূত্র রোমানিয়ার কাছে দুটি ট্যাংকারে হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন রাশিয়ার বলে জানিয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ থাকা জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে ধারণা করছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ন্যাটোর সহায়তা চেয়েছে বুলগেরিয়া। দেশটি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাটোও। জোটটির মহাসচিব মার্ক রুটে কৃষ্ণসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করার কথা জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এভাবে হামলা চলতে থাকলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বিশ্ববাণিজ্য ও খাদ্য সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে। কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে ঝুঁকি বাড়লে জাহাজের বিমা ব্যয় বাড়বে, ব্যাহত হতে পারে পণ্য পরিবহন। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন ইউরোপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করছে হামলা বন্ধ, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
Comments