প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, জবিতে গরু জবাই
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে গরু জবাই করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ অক্টোবর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিদায়ভোজের আয়োজন করেন। সেখানে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা হয়। রান্নার স্থান কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে হওয়ায় আপত্তি জানান সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের একাংশ। এ নিয়ে তাঁরা প্রতিবাদ মিছিল করেন। পরে এর প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন মুসলিম শিক্ষার্থীদের একাংশও।
এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রক্টর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। তবে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা।
জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলেও প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারির মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনকে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর স্বাধীনতা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে, ১৫ অক্টোবর গরুভোজ কর্মসূচির জন্য একটি গরু কেনেন শিক্ষার্থীরা। গরুটি নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিলও করেন তাঁরা। পরে শুক্রবার সকালে উপাচার্যের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গরু জবাই করা হয়। শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিকে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় অনুভূতি, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের খাবারের পছন্দ ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান বজায় রাখা এবং এ ধরনের ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা এড়াতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
Comments