ব্যাংক খাতের ক্ষতি পোষাতে জনগণের ওপর ৬০ হাজার কোটি টাকার চাপ
ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় আগামী পাঁচ থেকে আট বছর জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে—বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের এমন বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক। তাঁর প্রশ্ন, ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও লুটপাটের দায় কেন বহন করবে ১৭ কোটি মানুষ? তাঁর মতে, দায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় ও কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত না করে জনগণের করের টাকায় ব্যাংক খাতের ক্ষতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়।
দেশে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সীমিত আয়ে সংসার চালানোর চাপে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, ঋণখেলাপি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার দায় শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে কাদের?
সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ব্যাংক খাতে লুটপাটের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এই বিপুল অর্থের প্রয়োজনীয়তা, অর্থের উৎস এবং ক্ষতির দায় কারা বহন করবে—এসব প্রশ্নে ভিন্নমত জানিয়েছেন পলিসি থিংক অ্যান্ড রিসার্চের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক।
'১০ জন বা ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দায় ১৭ কোটি মানুষ নেবে কেন?'
মাজেদুল হকের মতে, ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন—গভর্নরের এমন বক্তব্যের ভিত্তি ও হিসাব স্পষ্ট হওয়া দরকার। তাঁর প্রশ্ন, অল্পসংখ্যক ব্যক্তি বা শিল্পগোষ্ঠীর অনিয়মের কারণে ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় কেন দেশের সব নাগরিকের ওপর চাপানো হবে?
তিনি বলেন, দেশের মানুষ এমনিতেই বিভিন্ন ধরনের কর ও মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় জনগণের করের অর্থ ব্যয় করা হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
মাজেদুল হকের ভাষ্য, যাঁদের কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যাংক খাতে সংকট তৈরি হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অথচ তাঁর অভিযোগ, আর্থিক খাতের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত অনেকেই শাস্তির বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
তিনি মনে করেন, ব্যাংক খাতের সংকটের দায় সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর যথাযথভাবে নির্ধারণ করতে হবে। জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে ব্যাংক খাতের ক্ষতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার আগে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
Comments