আইনের শাসন ছাড়া শান্তি অসম্ভব: সংবিধানের অঙ্গীকার ও রাষ্ট্রের দায় অপরিসীম
'আইনের শাসন যে দেশে থাকে না, সেখানে শান্তি আশা করা যায় না'—বাক্যটি নিছক কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক বাস্তবতা। কারণ শান্তি মানে শুধু রাস্তায় সংঘর্ষ না থাকা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নয়। প্রকৃত শান্তির ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার, আইনের সমতা, নাগরিকের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবাবদিহি।
একজন নাগরিক যখন বিশ্বাস করেন যে অন্যায় হলে তিনি আইনের আশ্রয় পাবেন, আদালতে প্রতিকার পাবেন এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তিও আইনের ঊর্ধ্বে নন—তখন রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর আস্থা তৈরি হয়। বিপরীতে, যখন আইনের প্রয়োগ ব্যক্তি, পদ, প্রভাব বা পরিচয়ভেদে ভিন্ন হয়ে পড়ে, তখন শুধু বিচার ব্যবস্থা নয়, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষয়ে যায়।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় আইনের শাসন কোনো ঐচ্ছিক রাজনৈতিক দর্শন নয়; এটি রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার।
সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে। একই অনুচ্ছেদের ২ দফায় সংবিধানকে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিলযোগ্য।
এই বিধানের তাৎপর্য গভীর। এর অর্থ হলো—রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা বা ক্ষমতাকেন্দ্র সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়। জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতা পায়, কিন্তু সেই ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা নির্ধারণ করে সংবিধান।
সুতরাং আইনের শাসনের প্রথম শর্তই হলো—রাষ্ট্র নিজেও আইনের অধীন থাকবে।
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান
সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
এই বিধান শুধু একটি নীতিবাক্য নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের অন্যতম সাংবিধানিক মানদণ্ড।
একই ধরনের পরিস্থিতিতে একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য যে আইন প্রযোজ্য, অন্যদিকে ক্ষমতাবান ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি, অর্থবান ব্যক্তি বা রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির জন্য যদি বাস্তবে ভিন্ন মানদণ্ড তৈরি হয়, তাহলে আইনের সমতার সাংবিধানিক ধারণাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আইনের শাসনের সৌন্দর্য এখানেই—আইনের সামনে ব্যক্তির পরিচয় নয়, আইনের বিধানই মুখ্য।
৩১ অনুচ্ছেদঃ রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর সাংবিধানিক সীমা
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে। আইনানুযায়ী ব্যবস্থা ছাড়া কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি করা যাবে না।
এখানে রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সীমা নির্ধারিত হয়েছে।
অর্থাৎ কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা আছে বলেই সেই ক্ষমতা ইচ্ছামতো প্রয়োগ করার সুযোগ নেই। ক্ষমতার উৎস থাকতে হবে আইনে, প্রয়োগ হতে হবে আইনানুগ পদ্ধতিতে এবং তা সংবিধানস্বীকৃত অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
এই নীতিই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে আইনানুগ ক্ষমতা এবং স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা—এই দুইয়ের মধ্যে পৃথক করে।
জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা
সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে ঘোষণা করা হয়েছে—আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
এই বিধানের গুরুত্ব অনুধাবন করলে বোঝা যায়, আইনের শাসন কেন কেবল আদালত বা আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়।
একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতা যদি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রে স্থায়ী নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করা কঠিন।
রাষ্ট্রের ক্ষমতা অবশ্যই থাকতে হবে; কিন্তু সেই ক্ষমতার প্রয়োগ হতে হবে আইন ও সাংবিধানিক সীমার মধ্যে।
রাষ্ট্রের কর্মচারী—জনগণের সেবক
সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদও আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এতে নাগরিকের সংবিধান ও আইন মান্য করার কর্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সব সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা কর্তব্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ সরকারি পদ কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতার উৎস নয়; এটি একটি জনসেবামূলক দায়িত্ব।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন আসে—রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মকর্তা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি কি ব্যক্তিগত ইচ্ছা প্রয়োগ করছেন, নাকি আইন দ্বারা অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন?
আইনের শাসনের উত্তর স্পষ্ট: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতিটি প্রয়োগের পেছনে বৈধ আইনগত কর্তৃত্ব থাকতে হবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: আইনের শাসনের মেরুদণ্ড
আইনের শাসন কার্যকর রাখতে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা অপরিহার্য।
সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে নির্বাহী অঙ্গসমূহ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর কারণ সহজ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নাগরিকের শেষ আশ্রয় যদি একটি স্বাধীন আদালত হয়, তাহলে সেই আদালতকে কার্যকরভাবে বিচার করার সাংবিধানিক সক্ষমতা ও স্বাধীনতা থাকতে হবে।
অন্যথায় মৌলিক অধিকার কাগজে থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
রিট: নাগরিকের সাংবিধানিক প্রতিকার
আইনের শাসনকে বাস্তব রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের কাছে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আর ১০২ অনুচ্ছেদ হাইকোর্ট বিভাগকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্দেশ বা আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে, বিশেষ করে মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।
এর ফলে প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম সংবিধানবিরোধী বা আইনবহির্ভূত হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তা বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।
এটাই সাংবিধানিক ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—রাষ্ট্র ক্ষমতা প্রয়োগ করবে, কিন্তু সেই ক্ষমতার বৈধতাও বিচারযোগ্য থাকবে।
আদালতের রায় মানা কেন সাংবিধানিক দায়িত্ব?
আইনের শাসন শুধু আদালতে বিচার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর করাও এর অপরিহার্য অংশ।
সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের ঘোষিত আইনের বাধ্যতামূলক প্রভাব নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ১১২ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে আদালতের বৈধ আদেশ বা রায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো সাধারণ প্রশাসনিক পরামর্শ নয়।
রায়ের বিরুদ্ধে আইনসম্মত আপিল, রিভিউ বা অন্য নির্ধারিত প্রতিকার থাকতে পারে। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রের আইনগত কাঠামোর ওপরই আঘাত আসে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সাংবিধানিক সীমা
গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাংবিধানিক গণতন্ত্রের অর্থ কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছার বাস্তবায়ন নয়।
কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি রয়েছে মৌলিক অধিকার, আইনের সমতা এবং সংবিধানের সর্বোচ্চতা।
সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। রাষ্ট্রও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন করতে পারে না।
অর্থাৎ রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ক্ষমতাও সাংবিধানিক সীমার মধ্যে পরিচালিত হতে হয়।
এটাই একটি সাংবিধানিক রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আইনের শাসন দুর্বল হলে শান্তি কেন টেকে না?
শান্তি কেবল শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। শক্তি দিয়ে সাময়িকভাবে শৃঙ্খলা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে; কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজন ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা।
যদি একজন নাগরিক মনে করেন—
অন্যায় হলেও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই;
প্রভাবশালী ব্যক্তি আইনের বাইরে থাকতে পারেন;
একই অপরাধে ভিন্ন ব্যক্তির জন্য ভিন্ন আচরণ হয়;
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার পাওয়া কঠিন;
আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অনিশ্চিত—
তাহলে আইনের প্রতি আস্থা দুর্বল হতে পারে।
আর আইনের প্রতি আস্থা কমে গেলে মানুষ আইনগত প্রতিষ্ঠানের বদলে ব্যক্তিগত প্রভাব, সামাজিক শক্তি বা অন্য অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করার প্রবণতায় যেতে পারেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা আরও দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তাই বলা যায়—আইনের শাসন শান্তির পরিপূরক নয় শুধু; এটি শান্তির অন্যতম প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি।
রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিকেরও দায়িত্ব আছে
আইনের শাসনের আলোচনা করতে গিয়ে শুধু সরকারের দায়িত্বের কথা বললে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ নাগরিকদের সংবিধান ও আইন মান্য করার কর্তব্য দিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জনগণের সেবা করার দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে।
অতএব, আইনের শাসন হলো রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয়ের দায়িত্ব।
রাষ্ট্রকে আইন মানতে হবে, নাগরিককেও আইন মানতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে, আবার নাগরিককেও আইনগত প্রতিকার ও সাংবিধানিক পদ্ধতির প্রতি আস্থা রাখতে হবে।
সামনে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—আইনের সমান প্রয়োগ
বাংলাদেশে আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করার আলোচনায় কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
প্রথমত, আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনগত কর্তৃত্ব ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
তৃতীয়ত, নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে কার্যকর ও সময়োপযোগী প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চতুর্থত, বিচার বিভাগের সাংবিধানিক স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা রক্ষা করতে হবে।
পঞ্চমত, আদালতের রায় ও আদেশের প্রতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
ষষ্ঠত, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনানুগতা নিশ্চিত করতে হবে।
উপসংহার
একটি রাষ্ট্র কত বড়, কত শক্তিশালী কিংবা কত উন্নত—তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সেই রাষ্ট্রে একজন সাধারণ নাগরিক কতটা নিরাপদে তাঁর অধিকার নিয়ে দাঁড়াতে পারেন।
যদি তিনি বিশ্বাস করেন যে আইন তাঁর পাশে আছে, আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে, প্রশাসন আইনের বাইরে যেতে পারে না এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তিও আইনের অধীন—তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর আস্থা তৈরি হয়।
আর সেই আস্থাই রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তির অন্যতম ভিত্তি।
বাংলাদেশের সংবিধান ইতোমধ্যেই আইনের শাসনের জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো দিয়েছে—সংবিধানের সর্বোচ্চতা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ, মৌলিক অধিকার বলবৎ করার রিট ব্যবস্থা এবং সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বাধ্যতামূলক প্রভাব—সবই সেই কাঠামোর অংশ।
এখন মূল চ্যালেঞ্জ সংবিধানে অঙ্গীকার লেখার মধ্যে নয়; সেই অঙ্গীকারকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডে বাস্তব রূপ দেওয়া।
কারণ একটি রাষ্ট্রে আইন থাকতে পারে, আদালত থাকতে পারে, সংবিধান থাকতে পারে—কিন্তু আইনের শাসন তখনই অর্থবহ হয়, যখন আইন বাস্তবে সবার জন্য সমভাবে কার্যকর হয়।
শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রের শান্তি তার শক্তির ওপর যতটা নির্ভর করে, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে নাগরিকের এই বিশ্বাসের ওপর—"অন্যায় হলে আইন আমার পাশে দাঁড়াবে।"
সেই বিশ্বাসই আইনের শাসনের প্রাণ। আর সেই বিশ্বাস যত শক্তিশালী হবে, রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, স্থিতিশীলতা ও শান্তির ভিত্তিও তত সুদৃঢ় হবে।
লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
Comments