দেশকে এগিয়ে নিতে কৃষক-কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে: মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী
দেশকে এগিয়ে নিতে কৃষক ও কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্য খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
সম্প্রতি মৎস্য ডিপ্লোমা ও মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের হলরুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, যারা আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে, আজ তাদের সামনে হাজির হয়েছি। তোমরাই আগামী দিনে দেশ চালাবে। আমাদের দায়িত্ব আগামী দিনের জন্য দেশটাকে সুন্দরভাবে তৈরি করা।
তিনি বলেন, আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, একই সঙ্গে মাছের চাহিদাও বাড়ছে। তাই আমাদের প্রতিটি সেক্টরে আধুনিকতা নিয়ে আসতে হবে। আমি কাজপাগল মানুষ। যারা কাজ করেন, তাদের আমি পছন্দ করি, প্রশংসা করি এবং উৎসাহ দিতে ভালোবাসি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে ১২ মাস ফসল উৎপাদন হয় এবং সারা বছর মাছের সমারোহ থাকে। দেশের এই প্রাকৃতিক ও উৎপাদনগত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি ও মৎস্য খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ে মাছ উৎপাদনের বিপুল সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক মাছ চাষ পদ্ধতি এবং প্রশিক্ষিত জনবল কাজে লাগানো গেলে এ খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক।
চাঁদপুর মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের ফিশারিজ অফিসার মো. হাসিব রানার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বাবুল কৃষ্ণ ওঝা, মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বি. এম. মোস্তফা কামাল এবং অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুচিত্রা রানী দাস।
এ সময় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল সিদ্দিক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবুসহ মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
Comments