সৌদি আরবে সংঘাতের প্রভাব: ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স
সৌদি আরবে চলমান সংঘাত ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স নিয়ে। দেশটিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দেশের শ্রমবাজার,বৈদেশিক মুদ্রার আয় এবং জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে পাঁচ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ১২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি।
রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সৌদিয়া এয়ারলাইনস ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এদিকে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় অনেক প্রবাসী চাকরি হারানো,ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তিগত জটিলতার আশঙ্কায় রয়েছেন।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে,সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সৌদি আরবে ভিশন ২০৩০ এবং বিভিন্ন মেগাপ্রকল্প ঘিরে ব্যাপক নির্মাণকাজ চলছে। এসব প্রকল্পে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সংঘাতের কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি বলে দূতাবাস জানায়।
সাম্প্রতিক হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং ২৪ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে,সংঘাতের কারণে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া, চাকরি হারানো কিংবা নতুন কর্মী নিয়োগ সীমিত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহেও চাপ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছে ৫৮৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছে ১৬৩ কোটি ডলার। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন,পরিবহন ও শিল্পের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,আহতদের চিকিৎসা ও আটকে পড়া কর্মীদের সহায়তা জরুরি। পাশাপাশি শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স ও জ্বালানি আমদানির সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
Comments