শাহজাদপুর খুকনি ইউনিয়ন গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ৯ নম্বর খুকনি ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় রাস্তার মাটি ভরাটে নেওয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প। এসব প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও কাজের বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন ও জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে সরকারি অর্থে রাস্তার মাটি ভরাটের প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ৯ নম্বর খুকনি ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় রূপসী ওয়াপদা থেকে গোলামের বাড়ি পর্যন্ত এবং রূপসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাজার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ভরাটে বরাদ্দ প্রায় দুই লাখ টাকা কাবিটা প্রকল্পে।
একই ইউনিয়নের রূপসী ওয়াপদা বাঁধ থেকে কালী মন্দির পর্যন্ত রাস্তা মাটি ভরাটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরও প্রায় দুই লাখ টাকা কাবিটা প্রকল্পে। অন্যদিকে রূপনাই পূর্বপাড়ার কালাচানের বাড়ি থেকে আহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ভরাটে বরাদ্দ প্রায় এক লাখ বাষট্টি হাজার টাকা টিআর প্রকল্পে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের বরাদ্দের তুলনায় বাস্তবে মাটি ভরাটের কাজ যথাযথ হয়নি। কোথাও প্রয়োজনীয় পরিমাণ মাটি না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এসব প্রকল্পের সভাপতিদের অভিযোগ, প্রকল্পের বরাদ্দ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। এমনকি প্রকল্পের বিল উত্তোলনের জন্য তাদের কাছ থেকে সই করা সাদা চেকও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। তারা বলেন, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানেন।
সরকারি অর্থে নেওয়া এসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকল্পের বাস্তব চিত্র জনসম্মুখে প্রকাশ এবং বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ৯ নম্বর খুকনি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং শাহজাদপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী রিপন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই'।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, 'আমি সচেতন ছিলাম না। শুধু চেষ্টা করেছি, যাতে তারা বিলটি পায়'।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন জানান, তিনটি প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেলে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ হলে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Comments