কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: ভিক্টিম ব্লেমিং ও চরিত্রহনন
কুমিল্লার এক কিশোরীর নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড একটি মর্মান্তিক অপরাধ। অথচ আমরা দেখছি এর বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার এক বিপজ্জনক অপচেষ্টা হচ্ছে। মূল অপরাধীকে আড়ালে রেখে বা লঘু করে দেখানোর মাধ্যমে গণমাধ্যমের একটি অংশ ভুক্তভোগী কিশোরী এবং তার প্রেমিককে যেভাবে উপস্থাপন করছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি কেবল হলুদ সাংবাদিকতার সীমা অতিক্রম করে না, বরং সামাজিক মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা বা কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার (Cognitive Warfare)-এর রূপ নিচ্ছে।
১. গণমাধ্যমে ভিকটিম ব্লেমিং ও প্রাইভেসি লঙ্ঘন:
একটি অপরাধের তদন্ত চলাকালীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে জনমত তৈরি করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র।
সিসিটিভি ফুটেজ ও ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ: অনেক গণমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ওই কিশোরী ও তার প্রেমিকের ব্যক্তিগত ছবি এবং হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করছে, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার চরম লঙ্ঘন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর সরাসরি আক্রমণ।
মূল অপরাধীকে আড়াল করা: আসল অপরাধী বা ধর্ষকদের মুখোশ উন্মোচন করার বদলে পুরো ফোকাস সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ভুক্তভোগী ও তার সঙ্গীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিকে।
চরিত্রহনন (Character Assassination): একটি জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার বদলে সমাজের রক্ষণশীল আবেগকে উসকে দিয়ে ভুক্তভোগীর চরিত্রহনন করা হচ্ছে, যাতে জনসাধারণের সহানুভূতি মূল অপরাধীর পরিবর্তে এই তরুণ-তরুণীর প্রতি ক্ষোভে পরিণত হয়।
২. কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার: গণমাধ্যম যখন এমন একটি মর্মান্তিক অপরাধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট একটি ন্যারেটিভ তৈরি করছে, তখন মূল সমস্যা থেকে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ছে।
এ ধরনের রিপোর্টিং-এর মাধ্যমে সমাজে একটি বার্তা দিচ্ছে যে, ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত জীবন বা চলাফেরার ত্রুটি থাকলে তার ওপর হওয়া অপরাধও যেন ক্ষমার যোগ্য।
Comments