৩৮ বছরে দ্বিতীয় বিয়ে, বাসর রাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন যুবক
নতুন বউকে ঘরে তুলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বাসর রাতেই সব স্বপ্ন ফেলে মারা গেলেন আয়নাল হক (৩৮) নামে এক যুবক। টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এ ঘটনা ঘটে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলার হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম।
বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামে এ ঘটনায় মারা যাওয়া আয়নাল হক ওই গ্রামের মৃত দানেশ আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আয়নাল হক টাঙ্গাইল পৌর শহরে ভাড়া বাসায় থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসাও করতেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার ছিল তার। কিন্তু সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।
গত জুলাই মাসে তার প্রথম স্ত্রী দুই সন্তান, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে তারই এক বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে যান। সেই থেকে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে চরম হতাশা ও কষ্টে দিন কাটছিল আয়নালের।
সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিবারের লোকজন তাকে দ্বিতীয় বিয়ের পরামর্শ দেন। সবার সম্মতিতে বুধবার রাতে পাশের খামারপাড়া গ্রামের আ. বারীর মেয়ে রুবিনা খাতুন (২০)কে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে নববধূকে নিয়ে নিজের বাবার বাড়ি ফেরেন।
কিন্তু কে জানত, এটাই হবে তার শেষ যাত্রা! বাসর ঘরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন আয়নাল। হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলার আগেই সবার চোখের সামনে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মুহূর্তেই বিয়ের আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে।
উপজেলার হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, নববধূকে ঘরে তোলার রাতেই এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঘটনাটি পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাটি সত্য। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তিনি স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন।
Comments