গোপালগঞ্জে ১ হাজার ২৮৮টি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয়া দূর্গাপুজা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জের মন্দিরগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পী ও আযোজকেরা। ইতিমধ্যে খড় ও মাটি দিয়ে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরী কাজ। আর নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পূজার প্রস্তুতি নিয়েছেন আয়োজকেরা। পূজা উপলক্ষে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া কথা জানিয়েছে, প্রশাসন।
জেলার বিভিন্ন মন্দির ও মন্ডপে ঘুরে দেখা ও জানা গেছে, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দিন গননা শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের। আর ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পুজার আনুষ্ঠিকতা। তাই গোপালগঞ্জের মন্দিরগুলোতে চলছে খড় আর মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরীর কাজ। তাই নাওয়া-খাওয়া আর ঘুম বাদ দিয়ে দেবী দূর্গার সাথে লক্ষী, গনেশ, কার্তিক ও সরস্বতির পাশাপাশি ধর্মীয় দৃশ্যপট ফুটিতে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। এ বছর এক-একজন প্রতিমা শিল্পীরা ৪ থেকে ৬টি করে প্রতিমা তৈরী করেছেন। গোপালগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালী বাড়ী, বাজার যুব সংঘ, মৈত্রী সংঘসহ বিভিন্ন এরাকার পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। খড়, বাঁশ ও কাঁদা-মাটি দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ আগেই শেষ হয়েছে; এখন চলছে ফিনিশিং ও রঙতুলির কাজ।
শারদীয়া দুর্গাপূজায় ব্যতিক্রমী আনতে আলোকসজ্জ্বা, প্রসাদ বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আযোজন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। উৎসবকে দৃষ্টিনন্দন ও আনন্দমুখর করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির আয়োজকেরা। মণ্ডপগুলোতে চলছে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলার ১ হাজার ২৮৮ মন্দির ও মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৫০টি, কোটালীপাড়া উপজেলায় ৩১৫টি, মুকসুদপুর উপজেলায় ৩০৭টি, কাশিয়ানী উপজেলায় ২২৬টি ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৯০টি মন্দির ও মন্ডপ রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৬'শ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
পঞ্জিকা মতে, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের দিন গননা শুরু হবে। আর ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পুজার মাধ্য দিয়ে শুরু হবে পুজার আনুষ্ঠিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে দেবী দুর্গার আরাধনা। এ বছর দশভুজার ঘোড়ায় (ঘোটকে) চড়ে পৃথিবীতে আগমন হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে। তবে নৌকায় করে কৈলাশে ফেরায় শস্যশ্যামলা হবে বসুন্ধরা।
জেলা শহরের বাজার যুব সংঘ মন্দিরের প্রতিমা শিল্পী প্রকাশ পাল বলেন, এবছর তিনি চারটি প্রতিমা তৈরী করছেন। প্রতি প্রতিমা থেকে মুজুরি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে মন্দিরগুলোতে খড় ও মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ করছেন। দুই তিনদিনের মধ্যে প্রতিমায় দোআঁশ মাটির কাজ শেষ করে রং তুলির আঁচরে প্রতিমা ফুটিয়ে তুলবে। আর পুজার আগেই সব কাজ শেষ করবেন। রঙ ও সাজসজ্জার উপকরণসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভ কিছুটা কম হলেও দেবীকে রূপ দিতে পারা এবং বংশানুক্রমিক এ কাজ করতে পারাতেই তাদের মূল আনন্দ।
প্রতিমা শিল্পী উত্তম পাল বলেন, এবছর এক-একজন ভাস্কর ৪ থেকে ৬ টি করে প্রতিমা তৈরি করেছেন। পুজা শুরুর দিন পর্যন্ত রং এর কাজ করতে হবে। ইতিমধ্যে খড় ও মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ। এখন রং তুলির আচড় দিয়ে প্রতিমা ফুটিয়ে তোলার কাজ করছেন।
জেলা শহরের বাজার যুব সংঘ মন্দিরের পুজা আয়োজক কমিটির সভাপতি দিলীপ কুমার সাহা দীপু বলেন, ইতিমধ্যে মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ হয়েছে। এখন রং তুলির কাজ চলছে। এবছর পুজা জাঁকজমকভাবে করতে নানা আয়োজন থাকছে। মন্দির ডেকোরেশনের কাজ চলছে। সেই সাথে সড়কগুলোতে আলোকসজ্জ্বা করা হচ্ছে।
আয়োজক নাড়ুগোপাল সরকার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনে কোন কমতি রাখছি না। মন্দির সাজানোর পাশাপাশি আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রতিমা দেখতে পারেন সেই ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থাও করা হবে।
গোপালগঞ্জ পূঁজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অশোক বিশ্বাস বলেন, গোপালগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির জেলা। এ জেলার কখনো সাম্প্রদায়িকতা নষ্ট হয়নি। সকল ধর্মের লোকজনের সহায়তায় গোপালগঞ্জে পুজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এবছর জেলায় ১ হাজার ২৮৮টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। আশাকরি সকলের সহযোগীতায় শারদীয় দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব যেন সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহ বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে আনসারের পাশাপাশি পুলিশ ও সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থাকবে। এছাড়া এসআরবিসহ অন্যান্য বাহিনীর টহল থাকবে।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো: আরিফ-উজ-জামান বলেন, নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে ইতিমধ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিক নিরাপত্তার জন্য ১ হাজার ২৮৮টি মন্দির সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। আইশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর পাশাপশি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশাকরি নির্বিঘ্নে গোপালগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে।
Comments