অটোরিকশা-ই-বাইক চলাচলে নতুন নিয়ম, ঢাকায় হবে ৮ জোন
রাজধানীতে অটোরিকশা ও ই-বাইকের চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে মোট আটটি জোনে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই সিটির প্রতিটিতে থাকবে চারটি করে জোন। জোনভেদে এসব যানবাহনের জন্য নির্ধারণ করা হবে আলাদা রং ও নির্দিষ্ট সংখ্যা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, প্রতিটি জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইকের জন্য আলাদা রঙের ব্যবস্থা রাখা হবে। একটি এলাকায় হয়তো সবুজ রঙের যান চলবে, অন্য এলাকায় নির্ধারণ করা হতে পারে কমলা বা ভিন্ন কোনো রং। এর মাধ্যমে সহজেই বোঝা যাবে কোন যান কোন জোনের জন্য অনুমোদিত।
তিনি বলেন, একটি জোনের জন্য যে সংখ্যক অটোরিকশা ও ই-বাইক প্রয়োজন, সেই হিসাব করে সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত সীমা পূরণ হয়ে গেলে নতুন করে ওই জোনে যানবাহন নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না।
শফিকুল ইসলাম খান আরও জানান, রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চারটি করে মোট আটটি জোন নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চারটি জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইক পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় বিধি ও নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
অটোরিকশার অবাধ চলাচলের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে একটি অটোরিকশা রাজধানী থেকে কুমিল্লা, দিনাজপুর কিংবা জয়পুরহাটের মতো দূরবর্তী এলাকায় চলে যেতে পারে। এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ করে যানবাহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতেই জোনভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে যারা অটোরিকশা চালাচ্ছেন, তাদের বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিবেচনা করা হবে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। তার ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অটোরিকশা ঢাকায় এসে যাতে অতিরিক্ত যানজট সৃষ্টি না করে এবং নগরবাসীর চলাচলে বিঘ্ন না ঘটায়, সেজন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি অটোরিকশাচালকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফলে এটি কেবল চালকদের দাবি আদায়ের আন্দোলন, নাকি সরকারকে চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে অন্য কোনো পক্ষের ভূমিকা রয়েছে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জোনভিত্তিক অটোরিকশার চাহিদা নিরূপণ করা হবে। সেই চাহিদার ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকায় যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে নতুন করে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হবে না।
Comments