দূষিত বাতাসে ফুসফুস রক্ষায় এয়ার পিউরিফায়ার কতটা উপকারী?
শীত এলেই ঢাকা, কলকাতাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে বাড়তে থাকে বায়ুদূষণ। ধোঁয়া, ধুলা ও সূক্ষ্ম কণায় ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। দূষণের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের বাতাস কিছুটা পরিষ্কার রাখতে অনেকেই ব্যবহার করছেন এয়ার পিউরিফায়ার।
তবে প্রশ্ন হলো, ঘরে নিয়মিত এয়ার পিউরিফায়ার চালালেই কি ফুসফুস পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে?
চিকিৎসকদের মতে, এয়ার পিউরিফায়ার ঘরের বাতাসে থাকা ক্ষতিকর কণার পরিমাণ কমাতে পারে। বিশেষ করে ভালো মানের HEPA ফিল্টারযুক্ত পিউরিফায়ার বাতাসের সূক্ষ্ম কণা, যেমন PM2.5, উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করে। তবে এটি দূষণের ক্ষতি পুরোপুরি ঠেকাতে পারে না এবং ফুসফুসে আগে থেকে তৈরি হওয়া ক্ষতিও সারাতে পারে না।
কেন বিপজ্জনক PM2.5?
PM2.5 হলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম বায়ুকণা, যা সহজেই শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এসব কণার সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ শুধু ধূমপায়ীদের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে বসবাস করলেও ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমনকি ধূমপান না করা ব্যক্তিদের মধ্যেও ফুসফুসের রোগ দেখা যেতে পারে।
কারা বেশি উপকৃত হতে পারেন?
হাঁপানি, COPD বা অ্যালার্জির মতো শ্বাসজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষ, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্য সঠিকভাবে ব্যবহৃত HEPA ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে।
তবে শুধু HEPA ফিল্টার সব ধরনের দূষণ দূর করতে পারে না। ধোঁয়া, গন্ধ ও কিছু ক্ষতিকর গ্যাস কমাতে অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টারও প্রয়োজন হতে পারে।
এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহারে যা মনে রাখবেন
ঘরের আকার অনুযায়ী উপযুক্ত CADR ক্ষমতার পিউরিফায়ার বেছে নিতে হবে। দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে দরজা-জানালা বন্ধ রেখে যন্ত্রটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
পাশাপাশি ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার বা প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করাও জরুরি। নোংরা বা পুরোনো ফিল্টার ব্যবহার করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া নাও যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এয়ার পিউরিফায়ারকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা যাবে না। ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ধূমপান, মোমবাতি বা ধূপের ধোঁয়া এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ দূষণের উৎসও কমাতে হবে।
অর্থাৎ, এয়ার পিউরিফায়ার ফুসফুসকে বায়ুদূষণের ঝুঁকি থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে, কিন্তু এটিকে সম্পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দূষণের সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে বের হওয়া কমানো, মাস্ক ব্যবহার এবং ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখার মতো একাধিক ব্যবস্থা একসঙ্গে নেওয়াই বেশি কার্যকর।
Comments