রাশিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলা: ২৩ ভারতীয় নাবিকসহ তেলবাহী জাহাজে আগুন
রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় নাবিকসহ একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটিতে হামলার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, নৌ ড্রোন (মেরিন ড্রোন) দিয়ে জাহাজটিতে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ধাক্কায় কৃষ্ণসাগরের পানিতে ছড়িয়ে পড়া জাহাজের অপরিশোধিত তেলে আগুন ধরে যায়। আগুনের তীব্রতা এত বেশি যে উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমলে আগুন নেভানোর কাজ পুনরায় শুরু করা হবে।
রাশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন শহর সোচির নিকটবর্তী সমুদ্রে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে গভীর সমুদ্রে জ্বলন্ত জাহাজটি থেকে লেলিহান শিখা ও আকাশে কুচকুচে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোচির মেয়র জানিয়েছেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে শহরের উপকূলীয় এলাকা ও সৈকতগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।
কৃষ্ণসাগরে বাড়ছে সংঘাতের উত্তাপ
এই ঘটনার মাত্র একদিন আগে রোমানিয়ার উপকূলের কাছাকাছি আরেকটি জাহাজে আগুন ধরে পরবর্তীতে সেটি ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও একজন নিখোঁজ হন। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ওই জাহাজটিতে আগুন ধরেছিল এবং সেই ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক আহতও হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৃষ্ণসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তীব্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনীয় শস্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে বলে কিয়েভ অভিযোগ করে আসছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে ইউক্রেনের এই ধরনের হামলাকে মস্কোর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছে কিয়েভ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষই হামলা আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাশিয়া কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে হামলার পাশাপাশি রাজধানীতেও দিনের বেলায় ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে শহরটির জনজীবন ও যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে দক্ষিণ রাশিয়ার বিভিন্ন তেল স্থাপনায় ইউক্রেনীয় হামলার জেরে সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়া, সৈকত বন্ধ ঘোষণা এবং কালো বৃষ্টির মতো পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটেছিল।
সূত্র: এনডিটিভি
Comments