সেপ্টেম্বরে হরমুজ দিয়ে ২১ এলএনজি কার্গো, যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর সেপ্টেম্বরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গোর সংখ্যা এক মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে মোট ১৯টি এলএনজি কার্গো পরিবহন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি কার্গো কাতার এবং ছয়টি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের জ্যেষ্ঠ প্রধান বিশ্লেষক এরিক ইয়েপ জানান, জুনে হরমুজ দিয়ে ১৫টি এলএনজি কার্গো পার হয়েছিল। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি কার্যকর হতে শুরু করেছিল।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন বেড়েছে। এই প্রবণতা অক্টোবরেও বজায় থাকলে পুরো মাসে এলএনজি পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রার ২৫ শতাংশে ফিরে আসতে পারে।
এদিকে জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মোট ২১টি এলএনজি কার্গো বের হয়েছে। জুনে এই সংখ্যা ছিল ১৫টি।
সংঘাত চলমান থাকার মধ্যেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কাতারএনার্জির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও বেশ কয়েকটি এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ যেগুলোর কিছুতে কার্গো ছিল এবং কিছু ছিল খালি—হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
কেপলার ও এলএসইজি'র জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে কাতারের রাস লাফান রপ্তানি টার্মিনাল থেকে এলএনজি বহনকারী আরও তিনটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির বাইরে পুনরায় শনাক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে দুটি জাহাজ হলো কাতারএনার্জির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আল খারাইতিয়াত ও আল ঘাররাফা। আল খারাইতিয়াতকে সর্বশেষ ২২ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালির ভেতরে দেখা গিয়েছিল। এরপর ২৯ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিম উপকূলের কাছে জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত হয়। বর্তমানে এটি শ্রীলঙ্কার পাশ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
অন্য জাহাজ আল ঘাররাফাকে ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ভেতরে ট্র্যাকিং তথ্য থেকে অদৃশ্য হতে দেখা যায়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিম উপকূলের কাছেও জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত হয়।
তৃতীয় জাহাজ মিলাহা কাতার জার্মানির প্রোনাভ শিপ ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সর্বশেষ এই জাহাজটির অবস্থান হরমুজ প্রণালিতে দেখা গিয়েছিল। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমে এর অবস্থান আবার শনাক্ত হয়।
বর্তমানে জাহাজটি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের হাজিরা বন্দরে তার কার্গো খালাস করছে।
এ বিষয়ে কাতারএনার্জির কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। অন্যদিকে প্রোনাভ শিপ ম্যানেজমেন্ট মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অনেক জাহাজ তথাকথিত 'ডার্ক ট্রানজিট' করছে। এ সময় শনাক্ত হওয়া এড়াতে জাহাজগুলো তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেয়।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষক এরিক ইয়েপ বলেন, মূল উদ্বেগের বিষয় হলো শীতকালজুড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে কি না।
তিনি বলেন, এটি নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের ওপর। প্রথমত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি রপ্তানি বেড়ে যাওয়াকে ইরান যদি প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের প্রভাব কমে যাওয়ার হিসেবে দেখে, তাহলে দেশটি আরও গুরুতর সামরিক উত্তেজনার পথে যাবে কি না। দ্বিতীয়ত, উচ্চ ব্যয় সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নিরাপত্তা পাহারায় জাহাজের বহর চলাচল অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে কি না।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। চলতি যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি।
Comments