এমবাপে-দেম্বেলের সম্পর্কে ফাটল, মেসেজেও নেই উত্তর
বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে ফ্রান্স দলের। হাসিমুখে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসছেন খেলোয়াড়েরা। কিন্তু ভেতরের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন বলে দাবি ফরাসি সংবাদমাধ্যমের। কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলের সম্পর্ক নিয়ে আবারও তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।
দুজনই তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে ফরাসি ক্যাম্পে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন কিছু তথ্য সামনে এনেছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফুট মেরকাতো। লেকিপের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে ভিন্ন এক চিত্র।
এমবপে সম্প্রতি নিশ্চিত করেছিলেন, দেম্বেলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, দুজনের মধ্যে কোনো উত্তেজনা নেই। কিন্তু লেকিপের তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। দেম্বেলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের কাছে এমবাপের এই বক্তব্য নাকি বিস্ময়ের ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লেয়ারফঁতেন ক্যাম্প শুরুর আগে দুজনের মধ্যে কার্যত কোনো যোগাযোগ হয়নি। শুধু একজন আরেকজনকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই বার্তার কোনো উত্তর আসেনি।
তারপরই ক্যাম্পে এমবাপেকে দেম্বেলে স্বাভাবিকভাবে স্বাগত জানাননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংকটটি যেভাবে সামলানো হয়েছিল, তাতে দেম্বেলে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
তবে দেম্বেলে প্রকাশ্যে বিষয়টি শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। ইতালির বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুরো ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের 'ছোটখাটো ঝামেলা' হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেম্বেলে বলেছিলেন, এই বয়সে এসে এসব বিষয় তিনি আর গুরুত্ব দেন না। এমনকি খাবার টেবিলে তিনি এমবাপের পাশেই বসেন বলেও জানান। তাঁর ভাষ্য ছিল, দুজনের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
তবে নতুন তথ্য বলছে, ভুল–বোঝাবুঝিটি একতরফা ছিল না। এমবাপেও নাকি আশা করেননি, দেম্বেলের ক্ষোভ এত দিন ধরে চলবে। এর আগে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হলেও তা কখনো এত দূর গড়ায়নি।
লেকিপের প্রতিবেদনে অবশ্য আরও অন্ধকার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দুজনের সম্পর্ক আগের মতো নেই। ফ্রান্স দলের কিছু খেলোয়াড়ের ধারণা, সাম্প্রতিক ঘটনা তাঁদের সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে চলতি ক্যাম্পে এমবাপ্পের ঘনিষ্ঠতার বৃত্তেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা এখন মাইকেল ওলিসের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপরীতে দেম্বেলের সঙ্গে তাঁর আগের সেই বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন আর দেখা যাচ্ছে না।
এমবাপে ও দেম্বেলে দুজনই অবশ্য কোনো সংকটের কথা অস্বীকার করছেন। কিন্তু ফ্রান্সের ভেতরের পরিবেশকে প্রতিবেদনে ক্যামেরার আড়ালে চলা 'নীরব শীতল যুদ্ধের' সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
Comments