আগের নামেই ফিরছে ঢাবির ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) 'শেখ মুজিবুর রহমান হল'-এর মূল ফটকে থাকা 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নামফলক মুছে ফেলে পুনরায় আগের নাম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে হলের মূল গেটে লেখা 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) মো. মুসলিমুর রহমান।
হল সংসদের ভিপি মো. মুসলিমুর রহমান জানান, গত ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রথমে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নিয়ে নাম পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হলের নাম 'শহীদ ওসমান হাদি হল' হিসেবে লেখা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা ফ্যাসিবাদ বা নির্দিষ্ট কোনো বিতর্কিত নামে হলের নামকরণের পক্ষে নন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে স্পষ্ট করেন যে, 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নামটি শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে লিখেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নামের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যে কারণে হল প্রশাসন আগের নামটিই প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
অন্যদিকে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে শুরুতে বিস্তারিত অবগত ছিলেন না। তবে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন যে বর্তমানে হলে সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। এই সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, তা তিনি খতিয়ে দেখছেন।
গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রথমে হলটির নাম পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে 'কাজী নজরুল ইসলাম হল' লেখা একটি ব্যানার টাঙানো হয়েছিল। পরবর্তীতে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তাঁর নামে হলের নামকরণের দাবি জোরালো হয় এবং হল সংসদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়।
গত ২৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পরবর্তীতে সিন্ডিকেটে পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সে সময় ডাকসুর পাঁচ সদস্য অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন।
এদিকে হঠাৎ করে হলের ফটক থেকে 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নামটি মুছে আবার 'শেখ মুজিবুর রহমান হল' নাম ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
Comments