পিটিআইর বিক্ষোভ ঘিরে অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ: নিরাপত্তা জোরদার, ধরপাকড় অব্যাহত
পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর আসন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দলটির পূর্বঘোষিত লংমার্চ ও বিক্ষোভের আগে রাজধানীর প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথগুলো কনটেইনার দিয়ে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুই স্তরে কনটেইনার সাজিয়ে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগামী রোববার রাজধানী অভিমুখে বড় ধরনের এই পদযাত্রার ডাক দিয়েছে পিটিআই। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচি বেশ কয়েক দিন ধরে চলতে পারে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পিটিআই শাসিত প্রতিবেশী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সঙ্গে রাজধানীর যাতায়াতের সব পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান মহাসড়ক ও মোড়গুলোতে কনটেইনার বসানোয় রাজধানীর অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা সড়ক যোগাযোগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট। অনেক স্থানে পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকদের কনটেইনারের ফাঁক গলে যাতায়াত করতে দেখা যায়।
রোববারের বিক্ষোভকে সামনে রেখে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই সরকারের ধরপাকড় অভিযান জোরদার হয়েছে। অভিযোগের অংশ হিসেবে ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়েছে। এএফপির হাতে আসা সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের সংগঠিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের (এমপিও) আওতায় তাদের ৩০ দিনের জন্য আটক রাখা হয়েছে।
এদিকে বাবার মুক্তির দাবি ও প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিবারের ওপর চলা এই দমন-পীড়নকে 'লজ্জাজনক' বলে অভিহিত করেছেন ইমরান খানের বড় ছেলে সুলেমান খান। ২৯ বছর বয়সী সুলেমান পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি বর্তমান পাকিস্তানি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আগামী রোববারের বিক্ষোভের আগে ভয়ভীতি দেখাতেই তাঁর ফুফুদের অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে।
পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা, সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাঞ্চলের প্রতিনিধি বাবু রাম পান্ত এই বিষয়ে বলেন, 'ইমরান খানের পরিবার ও পিটিআই নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ তাদের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।'
Comments