গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন: ভারতের নতুন ফর্মুলা ও বাংলাদেশের আপত্তি
চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন বা নতুন চুক্তির প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের কারিগরি দল। তবে নতুন চুক্তির শর্ত বা ফর্মুলা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
১৯৯৬ সালের চুক্তি: ফারাক্কা বাঁধ চালুর দুই দশকের বেশি সময় পর ১৯৯৬ সালে ত্রিশ বছর মেয়াদী এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই চুক্তির এই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা কম হলে দুই দেশ সমান পানি পায়। প্রবাহ ৭০-৭৫ হাজার কিউসেক হলে বাংলাদেশ পায় ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকিটা ভারত পায়। প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক বা বেশি হলে ভারত পায় ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি পানি পায় বাংলাদেশ।
ভারতের নতুন প্রস্তাব ও বাংলাদেশের আপত্তি
ভারত চাচ্ছে ১৯৯৬ সালের পুরোনো ফর্মুলা বাদ দিয়ে সাম্প্রতিক ৪০ বছরের পানিপ্রবাহ এবং ফারাক্কা পয়েন্টে পানির গড় প্রবাহকে নতুন চুক্তির ভিত্তি হিসেবে ধরতে।
বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত ভারতের এই অবস্থানকে 'অযৌক্তিক' বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, উজান থেকে ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করায় ফারাক্কায় এমনিতেই পানির প্রবাহ কম থাকে, তাই তার ওপর গড় করে পানি ভাগাভাগি করা কোনোভাবেই ন্যায্য হবে না।
পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানিয়েছেন, সরকার এ বিষয়ে একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। আলোচনা ও যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠকের মাধ্যমেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণের বক্তব্যে নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক প্রবাহকে মূল ভিত্তি করার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তারা নতুন সরকারের সাথে পানিসহ সব ইস্যুতে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
গত এপ্রিলে ভারত সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটি সংশোধিত ও ন্যায্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি বড় পরীক্ষা হবে।
ফারাক্কা পয়েন্টে পানির গড় প্রবাহ কম থাকায় ভারত নতুন ফর্মুলায় চুক্তি করতে চাইছে, যা নিয়ে পানি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ ও মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ পানির হিস্যা কেমন হবে।
সূত্র: বিবিসি
Comments