সরকারি ক্রয়ে ৯ প্রস্তাব অনুমোদন, ব্যায় ১৮ হাজার কোটি টাকা
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিতে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (CCGP) সভায় ৯টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। অর্থমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা ব্রিফিংয়ে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
সভায় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই ডাল কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা দরে খুলনার জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড থেকে ডাল সংগ্রহ করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হয়েছে।
কৃষি খাতে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে কয়েকটি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। জিটুজি পদ্ধতিতে কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন করে দুই লটে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানি করা হবে। প্রতিটি লটের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং প্রতি টন সারের মূল্য ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রোডিনটর্গ থেকে ৭ম লটে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
সৌদি আরবের মাডেন থেকে ২০২৬ সালের ৪র্থ লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির আরেকটি প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) জন্য ২ হাজার হর্স পাওয়ার ক্ষমতার একটি এসি-সিভিএফডি খনন রিগ সংগ্রহ, কমিশনিং ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি অর্থ ও সংস্থার নিজস্ব তহবিল মিলিয়ে এতে ব্যয় হবে ৪৯৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। চীনের বাওজি অয়েলফিল্ড মেশিনারি কাজটি বাস্তবায়ন করবে।
এই রিগ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে নতুন কূপ খনন এবং গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এ ছাড়া এসপিএমের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইন্দোনেশিয়ার পিটি পার্তামিনা ট্রান্স কনটিনেন্টালকে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের বিভিন্ন সড়ক ও কালভার্ট পুনর্বাসনের কাজও অনুমোদন পেয়েছে। প্যাকেজ উচ-১৪-এর আওতায় এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান আইসিসিএল ও বেলালাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চীন সরকারের ঋণ ও সরকারি অর্থায়নে এ কাজে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় সড়ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন এবং কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (CETP) নির্মাণ করা হবে। কাজটি বাস্তবায়ন করবে সিআরবিসি।
Comments