ইতালিতে পূর্ণ স্কলারশিপে ইপসার ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর আফরা নাওয়ার
জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা ও যুব নেতৃত্বে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিনিধিত্বকারী এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর আফরা নাওয়ার রহমান পূর্ণ স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষার জন্য ইতালির University of Trento-তে সুযোগ পেয়েছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি পূর্ণ স্কলারশিপ নিয়ে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেখানে অর্থনীতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন তিনি।
আফরার উচ্চশিক্ষার নতুন এই যাত্রা উপলক্ষে ইপসার প্রধান কার্যালয়ে তাঁকে অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আফরা নাওয়ার রহমান University of Trento-তে তাঁর নির্বাচিত শিক্ষাক্রম, Erasmus+ ICM এবং উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে একটি তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি অর্থনীতি, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সেই জ্ঞান বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের কাজে প্রয়োগের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান বলেন, "একজন তরুণের আন্তর্জাতিক পরিসরে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্র—সবকিছুর সম্মিলিত অবদান থাকে। আফরার বেড়ে ওঠা ও কাজের মধ্য দিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে, উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে তা আরও বিস্তৃত হবে। ভবিষ্যতে আফরা দেশের উন্নয়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।"
অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, আফরা নাওয়ার রহমানের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ইপসার জন্যও গর্বের বিষয়। পরিবেশবিজ্ঞানে একাডেমিক শিক্ষা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্ল্যাটফর্মে কাজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা যুক্ত হওয়ায় তাঁর জ্ঞান ও দক্ষতার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়; এটি নতুন জ্ঞান, চিন্তাধারা, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। ইতালিতে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করবেন এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাবেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
সভায় ইপসার পরিচালক (সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট) নাছিম বানু, পরিচালক (অর্থনৈতিক উন্নয়ন) মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী, উপপরিচালক (ফাইন্যান্স) রোকসানা বেগম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী শাহীন, ম্যানেজার প্রদীপ আচার্য, ড. মোরশেদ হাসান মোল্লা, প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতাউল হাকিম এবং এস এম শাহরিয়ায় আলম আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইপসার মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা সপ্রতীভ দাশ পিনন।
আফরার শিক্ষাজীবন ও জলবায়ু কার্যক্রম
উল্লেখ্য, আফরা নাওয়ার রহমান এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট গভর্নমেন্টের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে তিনি ইউএন মিলেনিয়াম ফেলোশিপের ক্যাম্পাস ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান এবং ড. শামসুন্নাহার চৌধুরী লোপার জ্যেষ্ঠ সন্তান।
পরিবেশবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু থেকেই জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় কাজ করে আসছেন আফরা। ইপসার Centre for Youth and Development (CYD)-এর Youth Coordinator হিসেবে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন, Loss and Damage, জলবায়ু ন্যায়বিচার, যুব নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জলবায়ু ও যুব নেতৃত্বে আফরার রয়েছে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত Global Youth Climate Summit-এ বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। সেখানে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরেন।
একই বছর ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত COP30-এর একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে 'Global South'-এর দৃষ্টিকোণ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু সমাধান নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন আফরা। এ ছাড়া যমুনা টেলিভিশনের 'সকালের বাংলাদেশ'সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও যুব সম্পৃক্ততার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন তিনি।
ইতালিতে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে পরিবেশ, জলবায়ু ও উন্নয়ন বিষয়ে তাঁর পূর্বের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন জ্ঞান যুক্ত হবে। ভবিষ্যতে এই সমন্বিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং যুব নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে—এমন প্রত্যাশা ইপসার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
Comments