ফোনের অ্যালার্মে ঘুম ভাঙছে? বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
এখন আলাদা অ্যালার্ম ঘড়ির ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। বেশিরভাগ মানুষই ঘুম থেকে ওঠার জন্য স্মার্টফোনে অ্যালার্ম সেট করে রাখেন। অ্যালার্ম বাজার পর অনেকের প্রথম কাজ হয় ফোন হাতে নিয়ে নোটিফিকেশন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা। কিন্তু ঘুম ভাঙার পরপরই মোবাইল ব্যবহারের এই অভ্যাস শরীর ও মনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীর এক মুহূর্তে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে যায় না। ঘুম থেকে জাগার পর স্বাভাবিকভাবেই শরীরে কর্টিসল, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। শরীরকে জেগে ওঠার জন্য প্রস্তুত করার এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে অনেক সময় 'মর্নিং সার্জ' বলা হয়।
এই সময়েই যদি ঘুম চোখে ফোনে কাজের ই-মেইল, নেতিবাচক খবর, উদ্বেগ তৈরি করে এমন বার্তা কিংবা একের পর এক নোটিফিকেশন দেখা শুরু করেন, তাহলে মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। উদ্বেগ বা উত্তেজনার কারণে শরীরের 'ফাইট অর ফ্লাইট' প্রতিক্রিয়াও সক্রিয় হতে পারে। এতে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।
তবে ঘুম থেকে উঠে একদিন-দুদিন মোবাইল দেখলেই বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি হবে—এমনটা বলা ঠিক নয়। বরং নিয়মিতভাবে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন ব্যবহারের অভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি একসঙ্গে থাকলে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
সকালের শুরুটা তাই যতটা সম্ভব শান্তভাবে করা ভালো। ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে না নিয়ে শরীরকে স্বাভাবিকভাবে জেগে ওঠার কিছুটা সময় দেওয়া যেতে পারে। অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট মোবাইল থেকে দূরে থাকার অভ্যাস করা উপকারী হতে পারে।
ঘুম থেকে উঠে প্রথমে এক গ্লাস পানি পান করা, প্রয়োজনীয় সকালের কাজ শেষ করা কিংবা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার মতো সহজ অভ্যাস দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে। এতে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর শরীর ও মনকে ধীরে ধীরে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়।
হার্ট ভালো রাখতে শুধু সকালে মোবাইল এড়িয়ে চলাই যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
Comments