বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে সংসদে প্রশ্ন
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা এবং শিক্ষার মান নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, 'বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০'-এর ধারা ৯(৪) অনুযায়ী প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসনের ৩ শতাংশ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে।
আইনের বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বিভিন্ন হারে বৃত্তি ও ফি মওকুফের সুযোগ দিয়ে থাকে। ইউজিসির মাধ্যমে এই বিধানের বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন অভিযোগ করেন, বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন মানছে না। একটি ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান 'সার্টিফিকেট বাণিজ্য' করছে এবং সেখানে গবেষণার সুযোগ নেই। গত ১৬ বছরে দলীয় বিবেচনায় ব্যাঙের ছাতার মতো মানহীন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য নোটিশ দিলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস, ল্যাবরেটরি ও আবাসিক সংকট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ২০২৪ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়েও যথাযথ তথ্যের জন্য নির্দিষ্ট নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।
Comments