সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ও সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর)। ১৯৭২ সালের এই দিনে ভারতের মাইহারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্ববরেণ্য এই সংগীত সাধক।
১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার (বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার) শিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। তার বাবা সাবদর হোসেন খাঁ ও মাতা সুন্দরী বেগম। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর আকর্ষণের কারণে মাত্র আট বছর বয়সে ঘর ছেড়ে কলকাতার উদ্দেশে পাড়ি জমান তিনি।
সেখানে 'মনমোহন দেব' ছদ্মনামে ওস্তাদ নুলো বাবুর কাছে যন্ত্রসংগীতের তালিম শুরু করেন। দীর্ঘ ৩৩ বছরের কঠোর সাধনা ও বিভিন্ন ওস্তাদের কাছে তালিম নেওয়ার পর তিনি উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর কাছে বীণা শিক্ষার মধ্য দিয়ে তার বর্ণাঢ্য সংগীত শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।
রাগসংগীতকে রাজদরবারের গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। সর্ববাদ্যযন্ত্র বিশারদ এই গুণী শিল্পী 'মাইহার ঘরানা'র প্রধান স্রষ্টা। তার উদ্ভাবিত উল্লেখযোগ্য রাগের মধ্যে রয়েছে—মদিনা মঞ্জুরী ও শোভাবতী, ধবলশ্রী ও ভুবনেশ্বর, দুর্গেশ্বরী ও হেমন্ত, উমাবতী ও প্রভাবতী, হেম বেহাগ ও নাগার্জুন
১৯৩৬ সালে বিশ্বভ্রমণের সময় লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার সংগীত পরিবেশনা ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ, দেশীকোত্তম, সম্মানসূচক ডক্টরেট ও ফেলোশিপসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হন। এছাড়া তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা কমিশনেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
জন্মভূমি শিবপুরের প্রতি তার আজীবন গভীর টান ছিল। মায়ের ইচ্ছায় তিনি সেখানে পুকুর খনন এবং পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন। ১৯৫৪ সালে জীবনের শেষবারের মতো জন্মভিটায় এসেছিলেন এই কিংবদন্তি।
১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১০৯ বছর বয়সে ভারতের মাইহারে জীবনাবসান ঘটে এই মহান সাধকের। তার প্রয়াণ দিবসে জন্মভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও দেশ-বিদেশের সংগীতপ্রেমীরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন বিশ্বসংগীতের এই নক্ষত্রকে।
Comments