বইকে নিজের পরম বন্ধু বানিয়ে নাও, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় জিয়াউদ্দিন হায়দার
ঝালকাঠিতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে জেলা পর্যায়ে সেমিনার এবং প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বইকে নিজের পরম বন্ধু বানিয়ে বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সব উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
সেমিনারে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এ ঝালকাঠি জেলায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৪১ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার খুদে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করতে নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরেন এবং জীবন গড়ার নানা পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, "তোমরা বড় স্বপ্ন দেখো। তোমাদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা বিজ্ঞানী, যারা একদিন পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ির মতো বড় বড় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবে। তোমরাই হবে এই দেশের ভবিষ্যৎ ত্রাণকর্তা। মনে রাখবে, স্বপ্ন সেটা নয় যা মানুষ ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না। তোমরা সেই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাও।"
নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "তোমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ঝালকাঠির মতো মফস্বল শহর থেকে আমরা কতদূর যেতে পারব? তাদের উদ্দেশ্যে বলি, আমিও তোমাদের মতোই প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি প্রাইমারি স্কুল থেকে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। আজ আমি বিশ্বব্যাপী কাজ করেছি, বিশ্বের ৬২টি দেশ ঘুরেছি। আমি পারলে, তোমরাও অবশ্যই পারবে।"
শিক্ষার্থীদের বড় হওয়ার মূলমন্ত্র হিসেবে উদার মানসিকতা, চেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "বড় হতে হলে সবার আগে দরকার উদার মানসিকতা, চেষ্টা আর কঠোর শ্রম। বইকে নিজের পরম বন্ধু বানিয়ে নাও। প্রকৃতির রহস্য উন্মোচন করো—পাখি কেন ওড়ে, নদী কেন বয়ে চলে, এসব প্রশ্নের উত্তর নিজে খুঁজে বের করো। ভুল করতে কখনো ভয় পাবে না; ভুল হলো এক ধরনের শক্তি। একটি শিশু যেভাবে হাঁটতে গিয়ে বারবার আছাড় খেয়ে পড়ে এবং এভাবেই হাঁটতে শেখে, জীবনটাও ঠিক তেমন। প্রথমবার সফল না হলেও হাল ছাড়বে না। সবসময় চিন্তা করবে কীভাবে নিজেকে আরও একটু ভালো করা যায়।"
মানবিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, "কখনো একা এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাববে না। একা সফল হওয়ার চেয়ে সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অনেক বেশি। তাই ক্লাসের বা সমাজের পিছিয়ে পড়া দুর্বল বন্ধুদের দিকে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করবে না, দুর্বলকে সাহায্য করবে এবং জীবনে সবসময় বিনয়ী থাকবে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস এম বায়েজিদ ইবনে আকবর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সৈয়দ হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. তৌহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি, কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার (অ.দা) আবু সাঈদ, ঝালকাঠি প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আককাস সিকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সংবর্ধনা ও বৃত্তির সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
Comments