কেরানীগঞ্জ, মতিঝিল, আশুলিয়া ও সাভারের বোমায় ছিল ‘টাইমার’
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সম্প্রতি উদ্ধার করা বোমা ও বোমাসদৃশ বস্তুর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উদ্বেগজনক তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সূত্রের দাবি, মতিঝিল, আশুলিয়া, সাভার ও কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা বোমাগুলোতে টাইমার যুক্ত ছিল। এসবই ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সাভারের শ্যামপুরে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, তিনি নব্য জেএমবির মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত নন; শুধু বোমা বহন করতেন। তাঁকে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলাটি অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে (এটিইউ) হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাভারের সাধাপুরে প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধারের ঘটনায়ও মামলা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পরে একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর প্রেশার কুকার বোমা পাওয়া যায়। পরদিন বোমা নিষ্ক্রিয় করে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নব্য জেএমবির সদস্যরা যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করতেন। তাঁদের কেউ কেউ ব্যাগে ছোট আকারের ককটেল বহন করতেন। আবার বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বোমা তৈরির রাসায়নিক ও সরঞ্জাম রাখার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।
গত বছরের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসা ও সাভারে বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (টিএটিপি), হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক অ্যাসিডসহ বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সিটিটিসি। গত ৩০ জুলাই আশুলিয়ার চারাবাগে একটি দোকানের সামনে থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকারসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষায় এতে আইইডির উপস্থিতি পাওয়া যায়।
সিটিটিসি সূত্র বলছে, বিভিন্ন বিস্ফোরণের পর উদ্ধার করা আলামতে বল, বিয়ারিং ও অ্যান্টেনার মতো উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব দেখে তদন্তকারীদের ধারণা, কিছু বোমা দূরনিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণের উপযোগী করে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। ফলে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার পুরো প্রক্রিয়াই ঝুঁকিপূর্ণ।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, কেরানীগঞ্জ, মতিঝিল, আশুলিয়া ও সাভারের ঘটনাগুলোর সঙ্গে নব্য জেএমবির সদস্যদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
এদিকে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে বুধবারের বিস্ফোরণের ঘটনাতেও তদন্ত চলছে। বিস্ফোরকটি আগে থেকে পুঁতে রাখা হয়েছিল নাকি বাইরে থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়া, প্লাস্টিকের টুকরা ও বারুদের উপকরণ সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্ফোরকের ধরন ও ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে।
Comments