১৭ বছর পর এস আলমের চিনিকলে ঝুলল তালা, এক ঘোষণাতেই বেকার ৩৮৩ শ্রমিক!
একটি ঘোষণাই যেন মুহূর্তে থামিয়ে দিল শত শত পরিবারের জীবিকার চাকা। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একদিনেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ৩৮৩ জন শ্রমিক ও কর্মচারী।
কাঁচামালের সংকট, এলসি খোলার জটিলতা ও আর্থিক সমস্যার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ, আর হঠাৎ করে কারখানা বন্ধের ঘোষণায় পরিবার-পরিজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, কাঁচামালের সংকট, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সমস্যাসহ নানা কারণে গত ৩০ জুলাই কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই ৩৮৩ জন শ্রমিক ও কর্মচারী কার্যত চাকরি হারান।
কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে চাকরি হারানো শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ সব পাওনা একযোগে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কারখানার কর্মচারী মনির আহমেদ বলেন, 'শ্রমিকদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৩৮৩ জন শ্রমিক ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছি। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। শুনেছি কাঁচামালের অভাব ও আর্থিক সংকটের কারণেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শ্রমিক বলেন, 'চাকরি হারিয়ে আমরা দিশেহারা। নতুন কোথাও চাকরির সুযোগ নেই। পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছি। এত শ্রমিককে একসঙ্গে বেকার করে দেওয়ায় আমাদের সামনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে।'
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গত কয়েক বছর ধরেই কাঁচামাল আমদানি, ব্যাংকিং সহযোগিতা এবং এলসি খোলার জটিলতায় ভুগছে। এসব কারণে এর আগেও গ্রুপটির চট্টগ্রামের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এস আলম গ্রুপের চিনি, ইস্পাত ও বিদ্যুৎসহ অন্তত ছয়টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তখনও কাঁচামাল আমদানিতে বাধা এবং ব্যাংকিং সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হন।
স্থানীয়দের মতে, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ দীর্ঘদিন ধরে কর্ণফুলী এলাকার অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকরাই নন, পরিবহন, সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অসংখ্য মানুষও আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
শ্রমিকরা দ্রুত কারখানাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ অথবা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সব পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।
Comments