শীঘ্রই বাস্তবায়িত হচ্ছে নতুন পে-স্কেল: আগস্টে গেজেটের প্রস্তুতি
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল চূড়ান্তকরণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নবম জাতীয় বেতন কমিশন বা 'জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫'-এর সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি চলতি মাসের মধ্যেই তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করার কাজ শেষ করতে যাচ্ছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যার আর্থিক কার্যকারিতা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে।
নতুন পে-স্কেল এক ধাপে নাকি একাধিক ধাপে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। তবে গেজেট আগস্টে প্রকাশিত হলেও এর আর্থিক সুবিধা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এবার কেবল মূল বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা নতুন করে পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। পাশাপাশি বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কিছু সুবিধাও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া অবসরকালীন সুবিধা ও পেনশন কাঠামোতেও পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে তুলনামূলক বেশি (প্রায় ৯০ থেকে ১০০%) এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে 'জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫' গঠন করে। গত ২২ জানুয়ারি কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত পর্যালোচনা কমিটি এবং সচিব কমিটির কারিগরি ও আর্থিক দিকগুলো যাচাই-বাছাই শেষে সুপারিশগুলো মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
Comments