পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় রদবদল: সচিবসহ শীর্ষ মিশনগুলোতে আসছে পরিবর্তন
ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার। নতুন পররাষ্ট্রসচিব নিয়োগের পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং দিল্লি ও লন্ডনের হাইকমিশনার পদে নতুন মুখ আনা হচ্ছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক ও লন্ডনের কূটনৈতিক নিয়োগগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় হচ্ছে বলে কূটনৈতিক পাড়ায় জোর আলোচনা চলছে। সরকারিভাবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও নির্ভরযোগ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই রদবদলের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে সরিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দীন নোমান চৌধুরীকে নতুন পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, যেখানে তিনি এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। আর বর্তমানে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহানকে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর হিসেবে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আসাদ আলম সিয়ামকে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের সাবেক এই রাষ্ট্রদূত ২০২৫ সালের ২০ জুন মো. জসীম উদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এছাড়া সরকার নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পরবর্তী অধিবেশনের আগেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব আইরিন খানের নিউইয়র্কে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া চার রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। এছাড়া গত দুই মাসে তিনটি দেশে তিনজন পেশাদার কূটনীতিককে রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম এখনও দেশে ফেরেননি। তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে এখনও তার কর্মস্থলেই রয়েছেন।
Comments