অতিবৃষ্টি ও বন্যা: চট্টগ্রাম বোর্ডের আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
টানা অতি ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আজকের (বুধবার, ৮ জুলাই) সব এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক জরুরি আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে দফায় দফায় আদেশে প্রথমে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি এবং পরে কক্সবাজার জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় শেষ রাতে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষাই স্থগিতের ঘোষণা আসে। তবে চট্টগ্রাম বোর্ড বাদে দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
গত দুই দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার বিকেল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ও দেয়ালধসের ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগরী, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মাইসছড়ি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় দুই জেলার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩টি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি।
রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর স্টেশনে আটকে পড়ে কক্সবাজারগামী 'পর্যটক এক্সপ্রেস' ট্রেনটি।
চলতি দুর্যোগে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় পড়েছে কক্সবাজার জেলা। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৯৩টি ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে শতাধিক গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
Comments