রিটার্ন ছাড়া মিলবে না সঞ্চয়পত্রের কর, জমি-ফ্ল্যাট নামজারিতেও কড়াকড়ি
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয়কর ও রিটার্ন জমার নিয়মে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা অগ্রিম কর আর ফেরত পাওয়া যাবে না। এমনকি যাঁদের করযোগ্য আয় নেই, তাঁদেরও এই টাকা ফেরত পেতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিয়ে রিটার্ন দিতে হবে। পাশাপাশি, শহর এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট বণ্টন বা নামজারি (মিউটেশন) করতে হলেও বাধ্যতামূলকভাবে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (পিএসআর) দেখাতে হবে।
বাজেটের মূল পরিবর্তনসমূহ: সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় এখন থেকে রিটার্নের প্রমাণপত্র ছাড়া জমি-ফ্ল্যাট বণ্টন ও নামজারি করা যাবে না। এত দিন সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য হতো। এখন রিটার্ন দিলে তা বছর শেষে সমন্বয় বা ফেরত পাওয়া যাবে। তবে ৫ লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারী প্রায় ১৪ লাখ করদাতার (যাঁদের টিআইএন ছিল না) এখন কর ফেরত পেতে বাধ্যতামূলকভাবে টিআইএন ও রিটার্ন লাগবে। দাবি করার ১২০ দিনের মধ্যে টাকা ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে এখন থেকে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক।
বড় করদাতাদের জন্য বিনিয়োগজনিত সর্বোচ্চ কর রেয়াতের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছরই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে সময়ের ওপর ভিত্তি করে করছাড় বা জরিমানা নির্ধারিত হবে: জুলাই-সেপ্টেম্বর: পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা ২৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় মিলবে। অক্টোবর-ডিসেম্বর: স্বাভাবিক নিয়মে নির্ধারিত কর দিলেই হবে। জানুয়ারি-মার্চ: নির্ধারিত সময়ের পর দেওয়ায় পরিশোধযোগ্য করের ২% বা ৩ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ বাড়তি টাকা গুণতে হবে। এপ্রিল-জুন: পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, তা জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান জানান, এই সংস্কারের ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই মাঠপর্যায়ে করদাতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা জরুরি।
Comments