শুধু শাপলা চত্বর নয়, বেনজীরের বিরুদ্ধে আইসিটিতে ১০ মামলার তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে আটক সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের 'মাস্টারমাইন্ড' নন; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত চলছে। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গেই তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান। এর আগে গত রবিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেছিলেন যে, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
বেনজীর আহমেদের তৎকালীন ক্ষমতার দাপট ও অপরাধের ধরন সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টারমাইন্ড নন। আমরা এক সময় জানতাম তিনি একাই যেন সারা বাংলাদেশ চালাচ্ছেন। তার উপরে তিনি কাউকে মানুষ মনে করতেন না। তার যে দম্ভোক্তি আর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল—সব কিছু মিলিয়ে তখন বাংলাদেশে কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পরিচিত ও দাপুটে ছিলেন এই বেনজীর আহমেদ।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'এই পরিচিতির মূল কারণ হলো—হেন কোনো দুষ্কর্ম নেই যা তিনি তার কর্মজীবনে করেন নাই। আমরা ধারণা করি, আওয়ামী লীগের শেষ আমলে তাদের কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই তাদেরই কোনো কুশীলব বেনজীরের কুকীর্তি ও দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ করে দেয়।'
চিফ প্রসিকিউটর জানান, বেনজীর আহমেদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শীর্ষ পদে থাকাকালীন অসংখ্য গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চলমান ১০টি মামলার প্রধানগুলো হচ্ছে- র্যাব প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেশজুড়ে সংঘটিত অসংখ্য গুম ও 'ক্রসফায়ার'-এর মামলার বিচার ও তদন্ত চলছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) প্রধান থাকাকালীন ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার তিনি অন্যতম প্রধান কুশীলব ছিলেন। এই সংক্রান্ত মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে।
পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অসংখ্য বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী হত্যাকাণ্ড এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিতর্কিত ও প্রহসনের নির্বাচনগুলো সফল করতে তিনি বিতর্কিত ও বেআইনি ভূমিকা পালন করেছিলেন।
দুবাই থেকে সাবেক এই আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর আইনি প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা স্পষ্ট করেছেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান, 'তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা মাত্রই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। যেসব মামলার বিচার বর্তমানে সচল রয়েছে, সেগুলোতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এছাড়া অন্যান্য তদন্তাধীন মামলাগুলোর রহস্য উদঘাটনে তাকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।'
Comments