রামিসা হত্যা: ৭২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় ও ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতে
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার আলোচিত মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) পাঠানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই নথি প্রেরণের আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, মূল রায়ের ৬৯ পৃষ্ঠা এবং ডেথ রেফারেন্সের ৩ পৃষ্ঠাসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত রোববার (৭ জুন) ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। দেশের বিচারিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো হত্যা মামলার সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মাত্র ৫ কার্যদিবসে সম্পন্ন করে রায় দেওয়া হলো।
রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই সাথে আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। আসামিরা এই অর্থ স্বেচ্ছায় পরিশোধ না করলে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রি করে রামিসার পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর দুই আসামিকে কারাগারের কনডেম সেলে নেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, নিহত রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে স্বপ্নার স্বামী সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং পরে গলা কেটে হত্যা করেন।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্বজনরা আসামির ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বালতির ভেতর কাটা মাথা উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ১৯ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ স্বপ্নাকে ঢাকা থেকে এবং প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে। ২০ মে সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ ২৪ মে পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
Comments