বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন হতে পারে ১৬ ডিসেম্বর: বিমান প্রতিমন্ত্রী
আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত 'থার্ড টার্মিনাল' উদ্বোধন করা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াকরণ চলমান রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, সরকারের পক্ষ থেকে তা আরও আগে শেষ করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দেশের ক্রমবর্ধমান বিমান পরিবহন চাহিদা মেটাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর (ফ্লিট) দ্রুত সম্প্রসারণ করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বর্তমানে সচল ১৪টি নয়, বাংলাদেশের বিমান খাতের জন্য অন্তত ৪৭টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন।"
এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চলছে, যাতে ব্যয় হবে প্রায় ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, বিমানের নিজস্ব আয় থেকেই কিস্তির মাধ্যমে এই বিশাল অর্থের মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব। তবে নতুন এই বোয়িং উড়োজাহাজগুলোর প্রথমটি ২০৩১ সালে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে বলে তিনি জানান। একই সাথে বিমানে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি দূর করতে পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হজযাত্রীদের লাগেজ কেটে ফেলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তে সম্পূর্ণ অসত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি স্পষ্ট করেন, তদন্তে লাগেজ মিস-হ্যান্ডলিং বা ইচ্ছাকৃত কাটার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কোনো হজযাত্রী এখনো পর্যন্ত লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মাত্র ২১টি লাগেজে আংশিক ক্ষয়ক্ষতি পাওয়া গেছে। তবে সেই ক্ষতি বাংলাদেশে হয়নি; লাগেজগুলো যে দেশ বা স্থান থেকে এসেছে, সেখানেই মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
Comments