দেড় মাসের সন্তান কোলে কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
এদিন দুপুর ২টার দিকে শিল্পীকে আদালতে হাজির করা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তার কোলে ছিল মাত্র ১ মাস ১৬ দিন বয়সী পুত্রসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরান। জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। হাজতখানায় নেওয়ার আগে আদালতের বারান্দায় বসে কোলের শিশুকে দুধ খাওয়াতে দেখা যায় এই নেত্রীকে। এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "রাজনৈতিক কারণে আজ দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ আমাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে।"
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল গত ১৬ জুলাই চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ২৩ জুলাই নেত্রী শিল্পীর নির্দেশে ১২০-১৩০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালায়। হামলায় ভাঙচুর, লুটপাট এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানা বাদী হয়ে গত ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।
আদালতে শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, আসামির সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে এবং তার কোলে অত্যন্ত ছোট একটি শিশু রয়েছে। মানবিক কারণে যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রয়োজন।
অন্যদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে বলেন: আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় তেজগাঁওয়ের রেলওয়ে কলোনি এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
Comments