সুপ্রিম কোর্ট ভারতে অসুস্থ যুবকের ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ পক্ষে রায় দিলেন
নজিরবিহীন রায় দিলেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিছানায় অসাড় শুয়ে থাকা ৩১ বছরের যুবক হরিশ রানার মা–বাবার অনুরোধ মেনে ছেলের 'নিষ্কৃতি মৃত্যু' বা পরোক্ষ মৃত্যুর (প্যাসিভ ইউথানেসিয়া) অবেদনে সাড়া দিলেন সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই রায় দিয়ে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি মনোযোগী হওয়া। মর্যাদার সঙ্গে নিষ্কৃতি মৃত্যু নিশ্চিত করতে আইন আনা দরকার।
বাইরের জগৎ কিংবা নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে চেতনাহীন কোনো ব্যক্তি, যাঁকে সুস্থ করে তোলার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা চিকিৎসাশাস্ত্রে নেই, কৃত্রিম উপায়ে যাঁর শরীরে প্রাণবায়ুটুকু শুধু অবশিষ্ট রয়েছে, তাঁর নিষ্কৃতি মৃত্যু বা পরোক্ষ মৃত্যুর অধিকার থাকা নিয়ে ভারতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। আইন–আদালত এই অধিকার নিয়ে সহমত হননি। সরকারও আইন প্রণয়ন করেনি। এ বিবেচনায় গতকাল হরিশ রানার মা–বাবার আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের সম্মতিদান নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী। রায়ে বলা হয়েছে, হরিশকে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এইমস) ভর্তি করাতে হবে। সেখানেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় মর্যাদার সঙ্গে তাঁকে দেওয়া জীবনদায়ী ব্যবস্থা (লাইফ সাপোর্ট) সরিয়ে ফেলতে হবে। তা করার আগে চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত বোর্ডকে অবশ্য জানাতে হবে, রোগীর সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।
Comments