খামেনির পর কে? অনুগত লারিজানির হাতে কি ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব
খামেনি না বাঁচলে কে নেতৃত্ব দেবেন ইরান-কে? খামেনি নিজেই ঠিক করলেন অনুগত লেফটেন্যান্টকে
আমেরিকার লাগাতার চাপ, তেহরানে খামেনি-বিরোধী বিক্ষোভ, আর তার মাঝেই এক বিস্ফোরক আশঙ্কা-গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি।
পরিস্থিতি এতটাই স্পর্শকাতর যে, নিজের অনুপস্থিতিতে কে দেশ চালাবেন, তাও নাকি চূড়ান্ত করে ফেলেছেন তিনি! আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কেন এই আশঙ্কা?
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে শুরু হয় খামেনি-বিরোধী বিক্ষোভ। জানুয়ারিতে তা আরও জোরদার হয়। অভিযোগ-অর্থনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, এবং রাজনৈতিক দমননীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তুঙ্গে।
এই আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ওয়াশিংটনের চাপ, ইজরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা, আর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝে খামেনি আশঙ্কা করতে শুরু করেন-তাঁকে টার্গেট করা হতে পারে।
কে হবেন দায়িত্বে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতেই খামেনি জরুরি পরিস্থিতির জন্য একটি বিকল্প ক্ষমতা কাঠামো গড়ে তোলেন।
এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী আলি লারিজানির হাতে।
তিনি ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ মুখ। অতীতে তিনি দেশের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিরাপত্তা মহলে যথেষ্ট প্রভাবশালী।
বর্তমানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান থাকলেও, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে লারিজানির গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তেহরানের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা-এটি কি ভবিষ্যতের ক্ষমতার রদবদলের ইঙ্গিত?
সামরিক প্রস্তুতি ও কড়া নির্দেশ
খামেনি তাঁর ঘনিষ্ঠদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন-যে কোনও পরিস্থিতিতে ইরানকে আমেরিকা বা ইজরায়েলের হামলা থেকে রক্ষা করতে হবে।
এমনকি তিনি বা অন্য কোনও শীর্ষ নেতা নিহত হলেও যেন রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে না পড়ে।
এই নির্দেশ শুধু রাজনৈতিক নয়, সামরিক পর্যায়েও কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দেয়-ইরান সম্ভাব্য 'ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক' বা শীর্ষ নেতৃত্বকে টার্গেট করার আশঙ্কা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মত
তেহরানের রক্ষণশীল বিশ্লেষক নাসের ইমানি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন-
খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই লারিজানির উপর আস্থা রাখেন। বর্তমান সংকটকালে সেই আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।
ইমানির কথায়, এই সংবেদনশীল সময়ে লারিজানিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।
ভবিষ্যৎ কী বলছে?
ইরানে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। তাঁর অনুপস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' নতুন নেতা নির্বাচন করে। কিন্তু বাস্তবে নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রেক্ষাপটে লারিজানির উত্থান ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
তেহরানে উত্তেজনা, ওয়াশিংটনের চাপ, আর সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রদবদল-সব মিলিয়ে ইরান এখন এক অস্থির সন্ধিক্ষণে।
খামেনির আশঙ্কা কি বাস্তবে রূপ নেবে? নাকি এটি কৌশলগত প্রস্তুতি মাত্র?বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন তেহরানের দিকে।
Comments