সামাজিক কেন্দ্র উচ্ছেদ ঘিরে উত্তাল ইতালির উত্তরাঞ্চল, রাতভর সংঘর্ষ
ইতালির উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর তরিনোতে একটি সামাজিক কেন্দ্র উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংস সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার রাতভর চলা এই বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালানো 'Askatasuna' নামের একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডভিত্তিক কেন্দ্র সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বামপন্থী ও সরকারবিরোধী সংগঠনের কর্মীরা তরিনোতে সমবেত হন।
বিক্ষোভ চলাকালে একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু বিক্ষোভকারী আতশবাজি, বোতল ও দাহ্য বস্তু নিক্ষেপ করে। পাল্টা জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে জনতা ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
সংঘর্ষের সময় শহরের কয়েকটি রাস্তায় আগুন জ্বালানো হয়, রাস্তার আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি সাঁজোয়া পুলিশ যান আংশিকভাবে পুড়ে যায়। এতে অন্তত ১০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কয়েকজন বিক্ষোভকারীও আহত হয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে সহিংসতার মধ্যে একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুরের পাশাপাশি সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনায় ইতালির সাংবাদিক সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার পর ইতালির শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা কঠোর ভাষায় সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সহিংস আন্দোলন বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংসের কোনো যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়'।
অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের দাবি, Askatasuna কেন্দ্রটি তরিনো শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং সেটি বন্ধ করে দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তরিনোর কেন্দ্রীয় ও আশপাশের এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শহরজুড়ে সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
Comments