নির্বাচন নিয়ে ভারতের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা হাসান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভারত বিশ্লেষণ করতে পারে, তবে মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আজ বুধবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে এখন মারামারি, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে সরকার কনসার্ন সেটাও আমরা জানতে পারছি। একইসঙ্গে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকেও নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য আসছে—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রিজওয়ানা হাসান বলেন, 'নির্বাচনের পরিবেশ তো উত্তেজনাপূর্ণই হবে, একদল আরেক দলকে হারাবার চেষ্টা করবে, একদল জিতবার চেষ্টা করবে। যে দল জিতবার চেষ্টা করবে সে তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কথা বলবে, প্রতিপক্ষ আরেকজনকে ঘায়েল করবার জন্য কথা বলবে। এটা তো খুব স্বাভাবিক কথা। কোনো কোনো জায়গায় হয়তো ভব্যতা-সভ্যতার সীমাটা রাখা হচ্ছে না। সে জন্য সকল দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।'
'যদি কোনো একটা আইন-শৃঙ্খলার পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন সেটা সরকারের দায়িত্ব। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বলল-না বলতো সেটা সরকারের দায়িত্ব না। আরেকটা কথা হচ্ছে, নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে অন্যদেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত তো দেওয়ার সুযোগ রাখে না। তার বিশ্লেষণ থাকতে পারে, কিন্তু কে জিতবে, কী ধারণা করবে, জিতবার আগেই এত কথা বলে দিলে তো এই মন্তব্য বস্তুনিষ্ঠ—সে রকম মনে করার আমাদের কোনো সুযোগ নাই,' বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের পরিবেশ যদি নষ্ট হয় সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করা হবে—গণমাধ্যমকর্মীরা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রিজওয়ানা বলেন, 'আওয়ামী লীগ ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেনি, এটা তো ঠিক কথা না। যেদিন ভোটের শিডিউল ঘোষণা হলো, সেদিনই তো বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ করা হলো এবং সেটার ভুক্তভোগী আমরাও কয়েকজন আছি।'
'ফলে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যদি পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি কোনো রকম চেষ্টা করে, সেটা প্রতিহত করার জন্য সরকার প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে প্রস্তুতি আমরা বাড়াব,' যোগ করেন তিনি।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে—গণমাধ্যমকর্মীরা এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এই উপদেষ্টা বলেন, 'আমরা যে এত কয়টা জেলায় গেলাম, সব জায়গাতে আমরা দেখে এসেছি যে, প্রত্যেকটা জায়গায় নির্বাচনের একটা আমেজ শুরু হয়েছে। যখন আমরা গেছি, তখনো কিন্তু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার সাথে সাথে উত্তেজনাও বাড়বে, আগ্রহও বাড়বে, আনন্দও বাড়বে। এটা সব সময়ই বাংলাদেশে হয়ে থাকে। কোনো জায়গাতে কোনো মানুষ আমাকে বলেনি যে, আপা ভোট দিতে কেমন করে যাব আমার ভয় লাগছে।'
রিজওয়ানা আরও বলেন, 'নানা প্রচার-প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, নানা ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে দিয়ে একটা ভয়ের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এ জন্যই বলা হচ্ছে যে, পতিত স্বৈরাচার যদি নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্ন করার জন্য কোনো কাজ করে, আমরা সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।'
Comments