হাদি হত্যা: আসামি রুবেল আহমেদ ৬ দিনের রিমান্ডে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে শুটার ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসামি মো. রুবেল আহমেদের ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রিমান্ডের আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জালাল উদ্দিন মার্জিন এতথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঁঞা।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার পরপর আসামি আত্মগোপনে চলে যায়। বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি এবং সোর্সের তথ্য মোতাবেক আসামিকে ডিবি পুলিশ টিমের সহায়তায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের আসামির বর্তমান ঠিকানা থেকে গত ২২ জানুয়ারি রাত ১২ টা ৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি এসব নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন। ঘটনার পূর্ব পরিকল্পনা এবং ঘটনার পরবর্তীতে এজাহারনামীয় আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের আত্মগোপনে থাকতে সহযোগিতা করার তথ্য প্রকাশ করে।
আসামি মো. রুবেল আহমেদ এজাহারনামীয় আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদের ঘনিষ্ট সহযোগী। আসামির নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে এদিন আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী ছিল না। মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরীফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হন।
পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এটা হত্যা মামলায় রুপান্তর নেয়। এ মামলার পর এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
Comments