সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের চাচার ইন্তেকাল
সমালোচকদের কাছে 'হামার কসাই' নামে পরিচিত সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচা রিফাত আল-আসাদ মারা গেছেন। মঙ্গলবার ৮৮ বছর বয়সে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। ১৯৮২ সালে হামা শহরে নির্মমভাবে ইসলামপন্থী বিদ্রোহ দমনের ঘটনায় তিনি 'হামার কসাই' নামে পরিচিতি পান। পরে ক্ষমতা দখলের ব্যর্থ চেষ্টার পর নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন তিনি।
রিফাত আল-হাসানে ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ওই দুটি সূত্র।
সিরিয়ার সাবেক সেনা কর্মকর্তা রিফাত আল-আসাদ ১৯৭০ সালের এক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাবা হাফেজ আল-আসাদকে ক্ষমতা দখলে সহায়তা করেন এবং তার মাধ্যমে দেশটিতে কঠোর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ফ্রান্সে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাসিত থাকাকালীন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ২০২১ সালে নির্বাসিত জীবন থেকে সিরিয়ায় ফিরে আসেন তিনি। তবে ২০২৪ সালে তার ভাতিজা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
২০০০ সালে হাফেজ আল-আসাদের মৃত্যুর পর দেশের ক্ষমতা বাশারের হাতে তুলে দেওয়ার বিরোধিতা করেন রিফাত এবং নিজেকে বৈধ উত্তরসূরি ঘোষণা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ দেশটিতে কোনও প্রভাব তৈরি করতে পারেনি।
২০১১ সালে সিরিয়াজুড়ে বিদ্রোহ শুরু হলে তিনি আবারও বিদেশে থেকে আসাদের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেন। গৃহযুদ্ধ এড়াতে তিনি ভাতিজাকে দ্রুত ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গৃহযুদ্ধে বাশারের দায় আংশিকভাবে এড়িয়ে যান এবং বিদ্রোহের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এক দশকের বেশি সময় পর ক্ষমতায় থাকা বাশার আল-আসাদ তার চাচাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন। এর মাধ্যমে ফ্রান্সে কারাবরণের হাত থেকে তিনি রেহাই পান, যেখানে সিরিয়ার সরকারি তহবিল থেকে সরানো অর্থ ব্যবহার করে কয়েক মিলিয়ন ইউরোর সম্পত্তি অর্জনের দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরপরই রাশিয়ার একটি বিমানঘাঁটি দিয়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করেন রিফাত। তবে তাকে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তিনি এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পিঠে ভর করে নদী পার হয়ে লেবাননে প্রবেশ করেন, সেখান থেকে চলে যান সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
Comments