ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ‘ভুল’ বলে মন্তব্য ইতালির’, উত্তেজনা না বাড়িয়ে সংলাপের আহ্বান
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক বাড়ানোর হুমকিকে 'ভুল সিদ্ধান্ত' বলে মন্তব্য করেছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এতে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি জানান, তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং শুল্ক বৃদ্ধির হুমকির বিরুদ্ধে ইতালির অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা কৌশলগত মতপার্থক্য থাকলেও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি কোনো সমাধান নয়।
শুল্ক নয়, সংলাপই সমাধান। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে তা বাণিজ্য যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়। তার ভাষায়, উত্তেজনা বাড়ালে কেউ লাভবান হবে না। আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের মাধ্যমে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ইতালি পুনরায় জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণেরই রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো একতরফা রাজনৈতিক, সামরিক বা অর্থনৈতিক চাপ সমর্থন করে না রোম।
ইতালির মতে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়গুলো ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত।
এদিকে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সতর্ক করে বলেছেন, শুল্ক বাড়ানোর হুমকি পরিস্থিতিকে বাণিজ্য যুদ্ধে রূপ দিতে পারে। তিনি বলেন, এমন সংঘাত ইউরোপ কিংবা যুক্তরাষ্ট্র—কারোর জন্যই লাভজনক হবে না, বরং এতে পশ্চিমা জোট দুর্বল হয়ে পড়বে।
ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একাধিক ইউরোপীয় দেশ জানিয়েছে, তারা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির এই প্রতিক্রিয়া ইউরোপীয় ঐক্য রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ।
Comments