খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা, তারেক রহমানের সপরিবারে যোগদান
নাগরিক সমাজের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত শোকসভা শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ৩টা ৫ মিনিটে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই শোকসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
এর আগে বেলা ২টা ৫৭ মিনিটে শোকসভায় যোগ দিতে সপরিবারে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুপুরের পর থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিরা আসতে শুরু করেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে এই শোকসভায় উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা এই নাগরিক শোকসভায় যোগ দিয়েছেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য আগে থেকেই ডিজিটাল কার্ড ও আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল, যা ছাড়া কাউকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
শোকসভার প্রধান উদ্যোক্তা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। বরং দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জাতীয় পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি নাগরিক ও মানবিক উদ্যোগ। গত ৩০ ডিসেম্বর তার প্রয়াণে দেশব্যাপী যে শোকের ছায়া নেমে আসে, সেই আবেগ ও দায়বদ্ধতা থেকেই এই শোকসভার আয়োজন।
অনুষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন না। কেবল শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নাগরিকরা বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে বক্তব্য রাখবেন।
শোকসভার গাম্ভীর্য ও পবিত্রতা রক্ষায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারী অতিথিদের সাদা-কালো পোশাক পরিধান করে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে কোনো ধরনের সেলফি তোলা, হাততালি দেওয়া বা দাঁড়িয়ে থাকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতিথিদের বসার জন্য নির্ধারিত গ্যালারিতে শৃঙ্খলার সাথে আসন গ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, আসাদ গেট এবং নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা হচ্ছে। মিডিয়া কর্মীদের জন্যও পৃথক গ্যালারি ও আমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
Comments