নাগেশ্বরীতে দুধকুমর নদের বাঁধ কেটে বালু বিক্রি করছেন ছাত্রদল নেতা, নিরব প্রশাসন
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে নাগেশ্বরীর বল্লভেরখাস ইউনিয়নের শিমুলতলা বাজারের পাশে দুধকুমর নদের পশ্চিম পাড়ে বিআইডব্লিউটির খনন করা বালু ভরাট বাঁধ (এক্সকাভেটর) ভেকু দিয়ে কেটে বালু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জাকারিয়া হোসেন এবং আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ফলে দুধকুমর নদের ভাঙনে বিলীনের পর বিদ্যমান অর্ধাংশ শিমুলতলা ও ফান্দেরচর দারিদ্র-পীড়িত এলাকা আবারো দুধকুমর নদের ভাঙন হুমকির মুখে পড়ছে।
সম্প্রতি, শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন দুধকুমর নদের বাঁধ কেটে নেওয়া হচ্ছে আর যেসব স্থানে রয়েছে শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকায় ঘন বসতি, স্থাপনা ও ফসলি জমি। স্থানীয়রাও আশঙ্কায় রয়েছেন এভাবে ভেকু দিয়ে নদীর বাঁধের বালু কাটার ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে তাদের বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের মুখে পড়বে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন বিআইডব্লিউটি এর দুধকুমার নদী খনন করা পশ্চিম পাড় বাঁধ অবৈধভাবে (এক্সকাভেটর) ভেকু দিয়ে বালু কেটে দীর্ঘদিন থেকে বিক্রি করছেন স্থানীয় জাকারিয়া হোসেন এবং আমিনুল ইসলাম।
জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রলি, থ্রি হুইলার, ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে দুধকুমার নদের বাঁধের বালু ভেকু দিয়ে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বালু বিক্রির মহোৎসব। গাড়িপ্রতি ৫০০ থেকে ১হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে উক্ত বালু ব্যবসায়ী চক্র। গাড়ির হিসাব রাখার জন্য তাঁবু খাটিয়ে বসে থাকে তাদের লোক।
শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকার আবুল কাশেম, আঃ করিম, মোজাফফর হোসেন, মাইদুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের জামাল হোসেন মেম্বারের ছেলে জাকারিয়া হোসেন এখন বেরুবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে দাপট খাটিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে বালু বিক্রি করছে। বাধা দিলেও মানছে না। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতেও পারছে না। নদীর বাঁধ কেটে বালু বিক্রি বন্ধ ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা তারা নিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান।
জাকারিয়া হোসেন বলেন, আমি বেরুবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি ছাত্রদলের নেতা। এখন সময় আমাদের ও আমাদের ক্ষমতা। আমরাই তো টাকা উপার্জন করবো। কাউকে গোনার ও দেখার সময় নাই।
বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর জামাল বলেন, দুধকুমার নদ ভাঙনে বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব পাড় শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন দুধকুমার নদের বাঁধ কেটে দীর্ঘদিন থেকে বালু বিক্রি চলছে। নদীর বাঁধ কেটে বালু বিক্রি বন্ধ না হলে শিমুলতলা ও ফান্দেরচরের অনেক অংশের এলাকা নদী ভাঙনে বিলীন হবে।
বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নাগেশ্বরী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)'র নির্দেশে বালু কাটা বন্ধে নিষেধ করা হয়েছে। আবার বালু কাটলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবগত করা হবে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা বলেন, অবৈধভাবে নদীর বাঁধ থেকে বালু কেটে বিক্রি কারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে নদীর বাঁধ কেটে বালু বিক্রি বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Comments