২০২৫ সালে সিলেটে সড়কে ৩৬৪ মৃত্যু, সর্বোচ্চ প্রাণহানি মোটরসাইকেলে
২০২৫ সালে সিলেট বিভাগে সংগঠিত ৩৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬৪ জন নিহত ও ৮৭২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকলে চালক ও আরোহী। বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ২৭৩ জন পুরুষ, ৫৪ জন মহিলা ও ৩৭ জন শিশু রয়েছেন। এর আগে, ২০২৪ সালে সিলেট বিভাগে ৩৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৫ জন নিহত ও ৭০৯ জন আহত হয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটি এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়, ২০২৫ সালে সিলেট জেলায় ১৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত ও ২৯৯ জন আহত হয়েছেন। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জৈন্তাপুর উপজেলায় ২২টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ সুরমায় ২২টি দুর্ঘটনায় ২১ জন ও জকিগঞ্জে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
সুনামগঞ্জ জেলায় ৬৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হয়েছেন। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত, ছাতক উপজেলায় ১২টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন।
মৌলভীবাজার জেলায় ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০ জন নিহত ও ৭০ জন আহত হয়েছেন। এ জেলায় সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় কুলাউড়া উপজেলায় ১২টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, বড়লেখা উপজেলায় ৭টি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৯টি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন।
হবিগঞ্জ জেলায় ৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৯ জন নিহত ও ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মাধবপুর উপজেলায় ২১টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন, নবীগঞ্জ উপজেলায় ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন ও বাহুবল উপজেলায় ১১টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
নিসচার প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩২ জন, সিএনজি লেগুনা চালক ও যাত্রী ৬৬ জন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে ৬২টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন, পথচারী ৮৬ জন, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের সঙ্গে ধাক্কায় ২৪টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত, মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২০টি দুর্ঘটনায় ১৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২২ জন চালক রয়েছেন।
নিসচার কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জহিরুল ইসলাম মিশু বলেন, স্থানীয় ৫টি দৈনিক পত্রিকা, ২টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পত্রিকার তথ্য, অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনার ভিত্তিতে নিসচা এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ে অভাব, ট্রাস্কফোর্স প্রদত্ত ১১১টি সুপারিশনামা বাস্তবায়ন না হওয়া, চালকদের মধ্যে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে ওভারটেকিং করা, যেখানে সেখানে পারাপার ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করাকে দায়ী করা হয়েছে।
Comments