সেনাবাহিনীর নির্যাতনের অভিযোগে বিএনপি নেতা নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীর নির্যাতনে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর অভিযোগ ; নেতা-কর্মীদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৪২) সেনাবাহিনীর মরধরের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
গতরাত (১২ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বিএনপি নেতা কর্মীরা। মরদেহ মর্গে নিতে সেনা সদস্যা বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করছে। আর বিএনপি নেতা কর্মীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।
এদিকে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় বাবু খান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে বিচারের দাবী করেন। তিনি বলেন, আপনারা কেউ আইন হাতে তুলে নিবেন না। এ ঘটনার বিচার হবে। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন।
এরপর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। এনপর দুপুর দেড়টায় মরদেহ উদ্ধার করে এম্বুল্যান্সযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, এই মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে দুঃক প্রকাশ করছি। এ ঘটনায মামলা হবে। পুলিশবাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আইনী সহযোগিতা দেয়া হবে। জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, সুরতহাল রিপোর্ট আমি পেয়েছি। এখন আমি লাশ নিতে এসেছি। ময়লাতন্ত হবে। সঠিক বিচারের দায়িত্ব আমি নেব।
নিহত বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাাবলুর সহধর্মিণী জেসমিন আক্তার বলেন, আমার স্বামী ফার্মেসী বন্ধ করে বাড়িতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় আর্মিরা এসে তাকে বেদম মারধর করে। তারপর অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে নেয। সেখানে মারা যায়।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা ডাঃ মকবুল হোসেন বলেন, সুরতহালে মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত একটি ঔষধের ফার্মেসি থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ এডি রেজিমেন্ট (টিটিসি আর্মি ক্যাম্প) এর একদল সদস্য।
অভিযোগ উঠেছে, অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের কথা বলে তাঁকে জীবননগর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
নির্যাতনের একপর্যায়ে ডাবলু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১০টার পর সেনাসদস্যরা তাঁকে পুনরায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত শামসুজ্জামান ডাবলু দুই সন্তানের জনক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর দুই শিশুপুত্রের সাথে ডাবলুর একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং একে 'বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড' হিসেবে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্প থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
# #
রেজাউল করিম লিটন
চুয়াডাঙ্গা।
Comments