গণভোটের প্রস্তুতিতে গতি, এক মাস আগেই ব্যালট মাঠে
ভোটের এক মাস বাকি থাকতে গণভোটের ব্যালট মাঠপর্যায়ে পাঠানোর কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। এসব ব্যালট এখন সারাদেশের জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ট্রেজারিগুলোতে সংরক্ষণ করা হবে। ভোটের আগের রাতে অন্য নির্বাচন সামগ্রী ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের সঙ্গে গণভোটের ব্যালট পেপারও কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর এক মাস আগেই গণভোটের ব্যালট পেপার মাঠপর্যায়ে পাঠানোর কারণ হিসেবে ইসি বলছে, এবার দুই ভোট একসঙ্গে হওয়ার কারণে ব্যালট পেপারও মোট ভোটারের দ্বিগুণ পরিমাণ ছাপতে হচ্ছে। এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখেরও বেশি। সেই হিসাবে দুই ভোটের জন্য প্রায় ২৬ কোটি ব্যালট পেপার ছাপার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এত ব্যালট পেপার কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণে রাখতে হিমশিম খেতে হবে ইসিকে। এত ব্যালট পেপার রাখার মতো জায়গাও নির্বাচন কমিশন কিংবা বিজি প্রেসে নেই। তাই আগেভাগেই গণভোটের ব্যালট পেপার ছেপে সারাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে ইসি।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গতকাল সোমবার সমকালকে বলেন, 'গণভোটের ব্যালট পেপার সারাদেশে পাঠানো শুরু হয়েছে, এটা জানি। তবে সব জায়গায়ে পৌঁছে গেছে কিনা, আমার জানা নেই। এটা অফিসিয়াল বিষয় হওয়ায় সংশ্লিষ্টরাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।'
নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ভোটের এক মাস আগে না পাঠালে এত ব্যালট রাখবই বা কোথায়? তাছাড়া দুটি ভোটের জন্য দ্বিগুণ পরিমাণ ব্যালট বাক্স, সিল, র্যালি ইত্যাদি অনেক ধরনের নির্বাচন সামগ্রী মজুত এবং সারাদেশে পাঠানোর বিষয়ও তো আছে। এ কারণেই এত আগে গণভোটের ব্যালট পাঠিয়ে দিতে হয়েছে।
এক মাস আগে ব্যালট পেপার পাঠানো হলে ভোট গ্রহণের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো রকম শঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়ে ইসি সচিব বলেন, ব্যালট পেপার যখনই পাঠানো হোক না কেন, সেগুলো তো জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতেই রাখা হয়। এর চেয়ে সুরক্ষিত জায়গা আর কোথায় আছে? ফলে এটা নিয়ে অন্য কিছু হওয়ার মতো শঙ্কা থাকবে কেন? বরং ইসির এমন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যাবে।
এদিকে, গণভোটের ব্যালট ছাপা শেষ হওয়ার পর এবার জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট ছাপার কাজ শুরুর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ইসি। আগামী ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দের কাজ শেষ হবে। এর পর সব তালিকা একত্রিত করে ২৩ জানুয়ারি থেকে জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপার কাজ শুরু করবে ইসি। এর পর অন্যান্য নির্বাচন সামগ্রীর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের ব্যালটও ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগের রাতে সব কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
ইসির সংশোধিত তপশিল অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাতিল-গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানি, যা চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
গণভোটের ফটোকার্ড প্রকাশ
গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। গতকাল প্রকাশিত ফটোকার্ডটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা হয়। এতে লেখা রয়েছে– 'গণভোটের 'হ্যাঁ'-তে সিল দিন, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার রাস্তা চিরতরে বন্ধ করুন।'
প্রেস উইং জানিয়েছে, গণভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আটটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হবে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো গণভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।
Comments