হবিগঞ্জের চারটি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই
হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে মোট ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ১৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।
হবিগঞ্জ–১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জাসদের মনোনীত প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রেভিনিউ স্ট্যাম্পে হলফনামা দাখিল না করা এবং স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকার কারণে বাতিল করা হয়।
একই আসনে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপির ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. শাহজাহান আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত মোহাম্মদ বদরুর রেজার মনোনয়নপত্র।
হবিগঞ্জ–২ (বানিয়াচং–আজমিরীগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নোমান আহমদ সাদীকের মনোনয়ন দলীয় কাগজপত্র ও ব্যাংক হিসাব না থাকায় বাতিল হয়। বাসদ মনোনীত লুকমান আহমদ তালুকদারের মনোনয়ন মামলার তথ্য গোপন রাখায় বাতিল করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী আফছার আহমদের মনোনয়নও প্রয়োজনীয় ভোটার তথ্য না থাকার কারণে বাতিল হয়।
বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপি মনোনীত আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান (জীবন), খেলাফত মজলিস মনোনীত আব্দুল বাছিত আজাদ এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরীর মনোনয়ন।
হবিগঞ্জ–৩ (হবিগঞ্জ সদর–লাখাই–শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. শাহিনুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় হয়েছে। অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকা, ট্যাক্স রিটার্ন এবং ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য না থাকায় বাতিল করা হয়।
বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপি মনোনীত মো. জি কে গউছ, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কাজী মহসিন আহমদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মহিব উদ্দিন আহমদ সোহেল, গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান, জাতীয় পার্টি মনোনীত আব্দুল মুমিন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত এস. এম. সরওয়ার।
হবিগঞ্জ–৪ (চুনারুঘাট–মাধবপুর) আসনে তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন আমার বাংলাদেশ পার্টি মনোনীত মোকাম্মেল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী ও সালেহ আহমদ সাজন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত শাহ মো. আল আমিন এবং সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন।
বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপি মনোনীত সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল, খেলাফত মজলিস মনোনীত আহমেদ আব্দুল কাদের, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত মো. গিয়াস উদ্দিন, বাসদ মনোনীত মো. মুজিবুর রহমান এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত মো. রেজাউল মোস্তফা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিধি ও আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। প্রার্থীদের আপিলের জন্য নির্ধারিত সময় এবং সুযোগ প্রদান করা হবে।
Comments